আধিকারিকের সই নকল করে টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে গ্রেফতার স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার

0
179

পারমিতা মণ্ডল,রামপুরহাটঃ  অর্থ তছরুপের অভিযোগে গ্রেফতার করা হল বীরভূমের মল্লারপুর ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ব্লক অ্যাকাউন্ট ম্যানেজারকে (বাম)। তাকে শনিবার রামপুরহাট মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক সৌভিক দে পুলিশের আবেদনের ভিত্তিতে পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। জানা গিয়েছে, মল্লারপুর ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে বাম পদে কর্মরত ছিলেন বিপদ ভঞ্জন দে। তিনি বিভিন্ন সময় ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিকের সই নকল করে টাকা আত্মসাৎ করেছেন। বাম তাঁর মা জ্যোৎস্না রাণী দে এবং নিজের অ্যাকাউন্টেও মোটা টাকা ট্রান্সফার করেছেন। ব্লক হাসপাতালে হোম ডেলিভারির ব্যবস্থা না থাকলেও নয় হাজার টাকা ওই খাতে পেমেন্ট করা হয়েছে। নিশ্চয়যান গাড়ির ক্ষেত্রেও অসঙ্গতি রয়েছে। সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় ও মিলন পালের সঙ্গে স্বাস্থ্য কেন্দ্রের কোন রকম চুক্তিই হয়নি। অথচ তাদের নামে নিশ্চয়যান প্রকল্পের গাড়ি ভাড়া বাবদ মোটা অঙ্কের টাকা অ্যাকাউন্টে টাকা ট্রান্সফার করা হয়েছে। ঙ্কুল হেলথের গাড়ির পেমেন্ট যাকে দেওয়া হয়েছে তাঁর নামে কোন গাড়িই নেই। বছরখানেক আগে চাকরি ছেড়ে দেন স্কুল হেলথের মেডিক্যাল অফিসার অমিত কুমার গায়েন। কিন্তু তাঁর অ্যাকাউন্টে মাইনে ট্রান্সফার করা হয়েছে ব্লক মেডিক্যাল অফিসারের অজান্তে। সরকারি কোষাগার থেকে ওই বাম কর্মী সাড়ে ১৩ লক্ষ টাকা তছরুপ করেছেন। ব্লক মেডিক্যাল অফিসার সৌরভ চক্রবর্তী রামপুরহাট স্বাস্থ্য জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে বিষয়টি লিখিতভাবে জানিয়েছেন। মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের নির্দেশেই চলতি বছরের ৯ মার্চ মল্লারপুর থানায় সরকারি অর্থ তছরুপের অভিযোগ দায়ের করেন। এরপরেই পুলিশ শুক্রবার রাতে বিপদ ভঞ্জন দে কে তাঁর বড়তুরি গ্রামের বাড়ি থেকে পুলিশ গ্রেফতার করে। এদিন তাঁকে রামপুরহাট মহকুমা আদালতে তোলা হয়েছিল। সরকারি আইনজীবী সুরজিত সিনহা বলেন, “মল্লারপুরের ওই স্বাস্থ্য কর্মী ব্লক মেডিক্যাল অফিসার এবং বিডিও-র সই নকল করে টাকা তছরুপ করেছেন দুইবার তিনি সাড়ে ১৩ লক্ষ টাকা তছরুপ করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা দায়ের করা হয়। মল্লারপুর থানার পক্ষ থেকে তাঁর পাঁচ দিনের হেফাজতে চেয়ে আবেদন করেছিল। বিচারক সেটা মঞ্জুর করেছেন ‘’। মল্লারপুর ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক সৌরভ চক্রবর্তী বলেন, “বামের পক্ষ থেকে রামপুরহাট স্বাস্থ্য জেলায় মোটা অঙ্কের টাকা চেয়ে চিঠি করা হয়। ওই চিঠি দেখেই সন্দেহ দানা বাঁধে জেলা স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকদের। এরপরেই হাসপাতালে তদন্তে গিয়ে তছরুপ ধরা পড়ে। ধীরে ধীরে দেখা যায় বিপদ ভঞ্জন নিজের নামে এবং বাড়ির সদস্যদের নামে মোটা অঙ্কের টাকা অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করেছেন। এছাড়াও বিভিন্ন আকাউন্টে টাকা ট্রান্সফার করেছেন হিসাব বহির্ভূত ভাবে। এরপরেই আমরা রামপুরহাট স্বাস্থ্য জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের নির্দেশে থানায় অভিযোগ দায়ের করি। আমরা চাই ওই স্বাস্থ্য কর্মীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক”।

LEAVE A REPLY