অনুব্রতর দেহরক্ষীর গাড়ী দুর্ঘটনা সন্দেহজনক – সুকান্ত

0
263

জয় লাহা,দুর্গাপুর,২৭ এপ্রিলঃ “মধ্যরাত্রে রাস্তায় তুলনামুলক গাড়ী ঘোড়া কম থাকে। সেখানে এতবড় একটা দুর্ঘটনা হয়ে গেল। সন্দেহের অবকাশ আছে। নিছকই দুর্ঘটনা, না দুর্ঘটনা বলে চালানো হচ্ছে? তদন্ত হওয়া উচিত।” বুধবার পুরুলিয়া যাওয়ার পথে দুর্গাপুরে সাংবাদিকদের প্রশ্নে এমনই খোঁচা দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। পাশাপাশি জঙ্গলমহলে মাওবাদীদের নতুন করে সক্রিয়তা প্রসঙ্গে প্রশ্ন তুললেন তিনি। উল্লেখ্য, গরু পাচারকান্ডে বীরভুম জেলার তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মন্ডল ও তার দেহরক্ষী সায়গল হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে সিবিআই। যদিও গত কয়েক সপ্তাহ ধরে অনুব্রত মন্ডল অসুস্থতায় হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। তার হাসপাতালে ভর্তি নিয়ে ইতিমধ্যে প্রশ্ন উঠেছে রাজনৈতিক মহলে। গতকাল গভীর রাতে অনুব্রত মন্ডলের নিরাপত্তারক্ষী সায়গল হোসেন দুর্গাপুর থেকে ঈদের বাজার করে ফেরার পথে ইলামবাজারের কাছে একটি ডাম্পারের সঙ্গে দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনায় সায়গল হোসেনের শিশুকন্যা সহ দুজনের মৃত্যু হয়। সিবিআই তদন্তের মাঝে দেহরক্ষীর ওই দুর্ঘটনাকে ঘিরে বিস্তর জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। অনুব্রত মন্ডলের দেহরক্ষীর গাড়ী দুর্ঘটনাকে সন্দেহজনক মনে করছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা সাংসদ সুকান্ত মজুমদার।  বুধবার পুরুলিয়ায় দলীয় কর্মসূচীতে যোগ দিতে যাওয়ার পথে ক্ষনিকের বিশ্রামের জন্য দুর্গাপুরে একটি হোটেলে উঠেছিলেন। সেখানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। অনুব্রত মন্ডলের দেহরক্ষীর গাড়ী দুর্ঘটনার প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন,” মধ্যরাত্রে রাস্তায় তুলনামুলক গাড়ী ঘোড়া কম থাকে। সেখানে এতবড় একটা দুর্ঘটনা হয়ে গেল। সন্দেহের অবকাশ আছে। নিছকই দুর্ঘটনা। না, দুর্ঘটনা বলে চালানো হচ্ছে?” তিনি বলেন,” অনুব্রত মন্ডল বিভিন্ন পুলিশ, আধিকারিককে নির্দেশ দিতেন দেহরক্ষীর ফোন থেকে। স্বাভাবিকভাবেই দেহরক্ষীর গাড়ী দুর্ঘটনা হওয়া, আমার মনে হয় দুর্ঘটনা নয়। তদন্ত হওয়া উচিত। সিবিআই’র দেখা উচিত, দুর্ঘটনার সঙ্গে কারা যুক্ত। পরিকল্পনা করে করা হয়েছে কিনা দেখা উচিত। তদন্ত হলে পরিস্কার বোঝা যাবে, তাকে ভয় দেখানোর জন্য কিনা, সে যেন মুখ না খোলে। তাকে শেষ করার জন্য এরকম চক্রান্ত হয়েছিল।” সম্প্রতি বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুরে মাওবাদীদের সক্রিয়তা ও টানা বন্ধ প্রসঙ্গে প্রশ্ন তুলেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন,” মাওবাদী কার্যকলাপ নতুন করে বেড়েছে। বিষয়টি সতর্ক দৃষ্টি রাখছি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে জানিয়েছি। কিছু দিন যাক্, তারপর বোঝা যাবে মাওবাদীদের মুল উৎস কি, কোথা থেকে আসছে। নাকি,  তৃণমূলই মাওবাদীদের বাড়ানোর চেষ্টা করছে বিরোধীদের মারার জন্য। বিভিন্ন জায়গা থেকে ইমপুট আসছে। স্বাভাবিকভাবেই সতর্ক দৃষ্টি রাখছি।” তিনি আরও বলেন,” অস্ত্রের মাধ্যমে গনতান্ত্রিক দেশে কোন পরিবর্তন সম্ভব নয়। তাই মাওবাদীদের সমাজের মুলস্রোতে ফিরে আসার আহ্বান জানাই।” পরিবর্তনের পর জঙ্গলমহলে ঢালাও উন্নয়ন হয়েছে বলে দাবী করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। ওই উন্নয়নকে ঢাল করে গত ২০১৬ ও ২০২১ বিধানসভার বৈতরনী পার করেছে তৃণমূল। তারপরও জঙ্গলমহলে মাওবাদীদের বাড়বাড়ন্ত নতুন করে প্রশ্ন তুলছে অনুন্নয়নে। এদিন সুকান্তবাবু সে প্রসঙ্গে বলেন,” বামফ্রন্ট আমলের শেষের দিকে গ্রামেগঞ্জে যেভাবে অত্যাচার হচ্ছিল। সেই গ্রামের লোকেরা বামফ্রন্টের অত্যাচারের ফলে মাওবাদীদের হাত ধরতে বাধ্য হয়েছিল। এখন তৃণমূলের অত্যাচার সেই জায়গায় পৌঁছে গেছে, না পার হয়ে গেছে।  সেটা যদি ঘটনা ঘটে, তাহলে চিন্তার বিষয়। অনুন্নয়নের পাশাপাশি গ্রামেগঞ্জে তৃণমূলের যে অত্যাচার। টাকা পয়সা তোলা। বিভিন্ন সরকারি সুবিধা পেতে গেলে তৃণমূল ট্যাক্স দিতে হয়। আমার মনে হয় এগুলো মুল কারন।” 

LEAVE A REPLY