বাঁকুড়ার কিছু যুবকের প্রচেষ্টায় আট বছর পর তামিলনাড়ুতে নিজের বাড়ি ফিরলেন পেরিমল

0
98

নিজস্ব প্রতিনিধি,বাঁকুড়াঃ আট বছর আগে ট্রেন সফরের সময় হারিয়ে গিয়েছিলেন। তারপর ভাষা সমস্যায় গত আট বছর ধরে শুধু চরকি পাক খেয়েছেন পথে পথে। তামিল ছাড়া অন্য কোনো ভাষা না জানায় নিজের সমস্যার কথা বোঝাতে পারেননি অন্যদের। ফলে আর বাড়ি ফেরা হয়নি। অবশেষে বাঁকুড়ার শালতোড়া থানার বেড়িয়াথোল গ্রামের একদল যুবকের উদ্যোগে তামিলনাড়ুতে নিজের বাড়িতে ফিরলেন বছর সাতান্নর পেরিমল। পেরিমলকে নিজের বাড়িতে ফিরিয়ে দিতে পেরে খুশি বেড়িয়াথোল গ্রামের যুবকেরা। আট বছর পর পেরিমলের সন্ধান মেলায় খুশি তাঁর পরিবার পরিজন। আজ থেকে বছর আটেক আগে জীবন অন্য খাতে বইতো তামিলনাড়ুর তিরুভন্নমালাই জেলার থান্ডারপাট্টু এলাকার বাসিন্দা পেরিমলের। স্ত্রী সন্তান নিয়ে ছিল তাঁর ভরা সংসার। ২০১৪ সালে হঠাৎই ঘটে যায় অঘটন যা তাঁর জীবনকে ওলোট পালোট করে দেয়। পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালে তামিলনাড়ু থেকে পান্ডবেশ্বর যাওয়ার পথে দিল্লীতে কোনোভাবে হারিয়ে যান পেরিমল। অনেক খোঁজাখুঁজির পরেও তাঁর আর কোনো সন্ধান মেলেনি। তারপর গত আট বছর পথই হয়ে ওঠে পেরিমলের ঘর। রোদ ঝড় বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে কখনো সেতুর নীচে দিন কেটেছে আবার কখনো রাত কেটেছে অন্যের বাড়ির রোয়াকে অথবা স্টেশনের প্লাটফর্মে। চেয়ে মেগে যেটুকু খাবার মিলেছে তা দিয়েই পেট ভরাতে হয়েছে। এভাবেই রাস্তায় ঘুরতে ঘুরতে গত ২৩ জুলাই পেরিমল এসে হাজির হন বাঁকুড়ার শালতোড়া থানার বেড়িয়াথোল গ্রামে। গ্রামের একটি দোকানে খাবার চাইতে গিয়েছিলেন পেরিমল। অন্য ভাষায় কথা বলতে দেখে আগ্রহ তৈরি হয় স্থানীয় একদল যুবকের। বেশ কিছুক্ষণ ধরে কথা বলার পর তাঁরা আন্দাজ করেন পেরিমল তামিল ভাষায় কথা বলছেন। বেড়িয়াথোল গ্রামের যুবক তন্ময় মন্ডল আগে পুদুচেরিতে কাজ করার সুবাদে তামিল ভাষা জানেন। গ্রামের যুবকরা তন্ময়কে ডেকে নিয়ে এসে পেরিমলের সঙ্গে কথা বলান। আর তাতেই উদ্ধার হয় পেরিমলের ঠিকানা। এরপর নিরাপত্তার স্বার্থে পেরিমলকে শালতোড়া থানার হাতে তুলে দিয়ে ইন্টারনেটের সাহায্যে পেরিমলের ঠিকানা খুঁজে বের করেন বেড়িয়াথোল গ্রামের উদ্যোগী যুবকরা। যোগাযোগ করা হয় তামিলনাড়ুর সংশ্লিষ্ট থান্ডারপাট্টু  থানার সঙ্গে। তাঁরাই পেরিমলের পরিবারকে খুঁজে বের করে ঘটনার কথা জানান। এরপর তামিলনাড়ু থেকে পেরিমলের স্ত্রী ও ছেলে বাঁকুড়ার শালতোড়া থানায় হাজির হয়ে পেরিমলকে শনাক্ত করেন এবং তাঁকে সঙ্গে নিয়ে তামিলনাড়ুতে ফিরে যান। এভাবে পেরিমলকে তাঁর নিজের বাড়িতে ফিরিয়ে দিতে পেরে যারপরনাই খুশি বেড়িয়াথোল গ্রামের যুবকেরা। খুশি পুলিশও। এতদিন পর তাঁকে কাছে পেয়ে খুশি পেরিমলের পরিবারও।

LEAVE A REPLY