জলে ডুব দিয়ে অভিনব কায়দায় নববর্ষকে স্বাগত জানালেন বিষ্ণুপুরের যুবক

0
248

নিজস্ব প্রতিনিধি,বাঁকুড়াঃ কথায় আছে সাত পুকুরে বিষ্ণুপুর। মন্দির নগরী বিষ্ণুপুর কে ঘিরে রেখেছে মল্ল রাজাদের খনন করা সাতটি বিশাল বিশাল পুকুর। তেমনি এক পুকুরের পাড়েই বিষ্ণুপুরের বাহাদুগঞ্জের অভাবী পরিবারে জন্ম সদানন্দ দত্তর। ছোট থেকেই জলের প্রতি অদ্ভূত একটা টান। সময় পেলেই ছুটে যেতেন বিষ্ণুপুরের মল্ল রাজাদের খনন করা ঐতিহ্যবাহী সুবিশাল লালবাঁধ জমুনাবাঁধে রাজারবাঁধ। সেখানে ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে সাঁতার কেটে কাটিয়ে দেন। সুবিশাল বাঁধের জল সাঁতরে এপাড় ওপাড় করা সদানন্দের কাছে জলভাত। সময়ের সাথে সাথে সংসার চালাতে গাড়ি চালকের পেশা বেছে নিতে হয় তাঁকে।মাঝে কিছুদিন বিষ্ণুপুর পুরসভা পরিচালিত একটি সুইমিং পুলে অস্থায়ী প্রশিক্ষক হিসাবে কাজ করলেও করোনা কালে লক্ ডাউনে সুইমিং পুল বন্ধ হয়ে যায়,বেকার হয়ে পড়েন সদানন্দ।  সদানন্দ যে পেশাতেই থাকুন না কেন জল তাকে টানে। বিষ্ণুপুরের মানুষ তাকে একডাকে চেনে। তিনি বিখ্যাত সদানন্দের ডুব নামেই। প্রতি বারের মতো এবারো অভিনব কায়দায় নববর্ষকে স্বাগত জানালেন বিষ্ণুপুর পৌরশহরের যুবক সদানন্দ দত্ত । এদিন তিনি বিষ্ণুপুর ঐতিহ্যবাহী যমুনাবাঁধে জলে ১৪২৯ টি ডুব দিয়ে বাংলা নতুন বছর ১৪২৯ সাল কে স্বাগত জানালেন । তবে এটাই প্রথম নয় প্রতি বছর ইংরেজি নিউ ইয়ারেও তিনি একই কায়দায় জলে ডুব দিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানান। প্রতিবছর তিনি বাংলা ও ইংরেজি নতুন বছরকে স্বাগত জানান জলে বছরের সংখ্যার সমসংখ্যক ডুব দিয়ে। সদানন্দের এই নববর্ষকে স্বাগত জানানোর বিরল দৃষ্টান্তের সাক্ষী থাকতে বিষ্ণুপুর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যমুনা বাঁধ এলাকায় ভিড় জমান বিষ্ণুপুর বাসি ছাড়াও আশেপাশের জেলা ও শহরের মানুষজন। এই বিরল কৃতিত্ব যাতে কোনো ছেদ না পড়ে সে কারণেই বিষ্ণুপুর প্রশাসনও অত্যন্ত কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা রাখে যমুনা বাঁধ এলাকায়।সদানন্দের এই ডুব দেখতে শুধু বিষ্ণুপুর শহরের মানুষ নয় নববর্ষের দিন সুপ্রাচীন মল্লগড়ে হাজির পর্যটকরাও যমুনাবাঁধের পাড়ে এদিন সদানন্দের ডুব বিরল ঘটনার সাক্ষী হয়ে থাকলেন। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সদানন্দের জবাব এখনকার যুবকেরা সাঁতার কাটতে ভুলে গেছে। সাঁতার কাটলে শরীর এবং মন দুটোই ভালো থাকে। সাঁতার কাটতে হবে।তবে শুধু যুবকদের সচেতন করাই নয়। সংস্কারের অভাবে মজে যেতে বসা বিষ্ণুপুরের ঐতিহ্যবাহী এই বিশাল বিশাল বাঁধ নিতে সদানন্দের গলায় আক্ষেপের সুর। তার দাবি লালবাঁধের মতো বিষ্ণুপুরের বাকি ৬ টি পুকুরও সংস্কারের উদ্যোগী হোক প্রশাসন।

LEAVE A REPLY