স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে পুরুলিয়ার বেড়শা গ্রামের লুপ্ত প্রায় বিরহড় মহিলারা

0
130

সাথী প্রামানিক, পুরুলিয়া, ৬ জুলাই: স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে লুপ্তপ্রায় পুরুলিয়ার বলরামপুর ব্লকের বেড়শা গ্রামের বিরহড় মহিলারা। খাদ্য প্রক্রিয়াকরণের প্রশিক্ষণ নিয়ে আজ তাঁরা তৈরি করছেন আচার, শস, লেমন গ্রাস টি, নিশিন্দা পাতার গুঁড়ো প্যাকেট জাত করে স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে পা বাড়িয়েছেন তাঁরা। এর আগে অবশ্য দোলের সময় এক কুইন্টাল ভেষজ আবির তৈরি করে ৩৩ হাজার টাকা (সব খরচ বাদে) আয় করেছিলেন। তাঁদের স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে একটি স্বেচ্ছা সেবী সংস্থা, সিধো কানহো বিরসা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে পুরুলিয়া জেলা বিজ্ঞান কেন্দ্র। খাদ্য প্রক্রিয়াকরণের কাজের সুবিধার জন্য বেরসা গ্রামেই একটি ছাউনি তৈরি গড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ১ লক্ষ ৮৫ হাজার টাকা এর জন্য অনুমোদিত হয়েছে বলে জানান বিজ্ঞান কেন্দ্রের আধিকারিক ধ্রুব জ্যোতি চট্টোপাধ্যায়। আজ জেলা বিজ্ঞান কেন্দ্রের ইনোভেশন হাবে ওই প্রশিক্ষিত বিরহড় মহিলারা হাতে কলমে আচার, শস প্রভৃতি করে প্রদর্শন করলেন। চাক্ষুষ করে প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন সিধো কানহো বিরসা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. দীপক কুমার কর। প্রসঙ্গত, ভারতবর্ষে যে পঁচাত্তরটি (আনুমানিক) আদিবাসী গোষ্ঠী রয়েছে তার মধ্যে একটি হল বিরহড় (গোষ্ঠী) সম্প্রদায়। এরা মূলত পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া জেলায় বসবাস করে। এই জেলায় মোট ১০৮ টি বিরহড় পরিবারের বাসস্থান রয়েছে (২০১৮ সালের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী)। এরা সাধারণত বনের ফলমূল, শাকপাতা খেয়েই জীবনযাপন চালাত। এখন বিকল্প জীবন-জীবিকার পরিবর্ত উপায় খুঁজে পাচ্ছেন। রাঢ় বাংলার এই জেলার রুক্ষ শুষ্ক জলবায়ু, অনুর্বর লাল মাটি, জলের অপ্রতুলতার জন্যে আয়েশি জীবনযাত্রার অন্তরায়। বিরহড়রা এই অঞ্চলের এক আদিম অরণ্য নির্ভর উপজাতি যারা মূলত জঙ্গলের কাঠ, ছাতু, গাছের ছাল এবং অন্যান্য জিনিস থেকে জীবন নির্বাহ করত। সকালে উঠে জঙ্গলে যাওয়া এবং বনজ সম্পদ সংগ্রহ করে হাটে বিক্রি করা মূল জীবিকা। সেই আঙ্গিকে ওই সম্প্রদায়ের মহিলারা স্বনির্ভর হওয়ার দৌড় শুরু করেছেন।

LEAVE A REPLY