ফিরতে হল লকেটকে, ধৃতদের ৮ দিনের পুলিশ হেফাজত

0
22

পারমিতা মণ্ডল, বোলপুর, ২১ সেপ্টেম্বরঃ গ্রামবাসীদের প্রতিরোধে মৃত শিশুর বাড়ি পৌঁছতে পারলেন না সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়। প্রতিবাদে শান্তিনিকেতন থানার সামনে ধর্নায় বসেন তিনি। সাংসদের অভিযোগ “পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা দিয়ে মুখ বন্ধ করেছে পুলিশ ও তৃণমূল”। অন্যদিকে খুনের ঘটনায় ধৃত রুবি বিবি এবং তার মা সুফিয়া বিবিকে আট দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বোলপুর মহকুমা আদালতের অতিরিক্ত মুখ্য দায়রা বিচারক সৌভিক রায়। সূত্রের খবর রুবি পুলিশি জেরায় খুনের কথা স্বীকার করে নিয়েছে। ১৮ সেপ্টেম্বর সকালে শান্তিনিকেতন থানার মোলডাঙা গ্রামের টালিপাড়ায় শিশু শিবম ঠাকুর নিঁখোজ হয়ে যায়৷ ২০ সেপ্টেম্বর দুপুরে প্রতিবেশি রুবি বিবির বাড়ির এডবেস্টারের ছাদ থেকে বস্তাবন্দি পচাগলা দেহ উদ্ধার হয়৷ এরপরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন গ্রামবাসীরা৷ অভিযুক্তের বাড়িতে ভাঙচুর করে অগ্নিসংযোগ করা হয়৷ উত্তেজনা থাকায় ৬টি পুলিশ পিকেট বসানো হয়৷  এদিন বেলার দিকে মৃত শিশুর পরিবারের বাড়িতে যাওয়ার জন্য শান্তিনিকেতনে আসেন হুগলীর সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু গ্রামে ঢোকার মুখে গ্রামের মহিলারা সাংসদকে ঢুকতে বাধা দেন। গ্রামে পুলিশের সামনেই তাঁকে ঘিরে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ দেখান গ্রামবাসীরা৷ ব্যাপক বিশৃংখলার সৃষ্টি হয়। এই ঘটনার দায় পুলিশের উপর চাপিয়েছেন সাংসদ। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে শান্তিনিকেতন থানায় ধর্নায় বসেন লকেট চট্টোপাধ্যায়। লকেট বলেন, “আমরা সবাই এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। পুলিশ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে এটা করেছে। পুলিশ আর তৃণমূলের গুণ্ডারা দায়ী। ওই শিশুর মা-বাবাকে ১০ লক্ষ টাকা দিয়ে মুখ বন্ধ করেছে। যাতে ওরা বাইরে সত্যটা না বলতে পারে৷ তাই আমাদেরও গ্রামে ঢুকতে দেওয়া হয়নি৷ আমরা এর শেষ দেখে ছাড়ব।” বিকেলের দিকে থানার সামনে থেকে ধর্না ছেড়ে কলকাতার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে যান। জানিয়ে যান বৃহস্পতিবার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী আসছেন। দেখব পুলিশ তৃণমূলীদের নিয়ে কতদিন আমাদের বাধা দিতে পারে। মৃত শিশুর পিসি সবিতা ঠাকুর বলেন, “আমরা অভিযুক্তদের শাস্তি চাই। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন করব ধৃতদের ফাঁসি দেওয়া হোক নচেত আমাদের হাতে ছেড়ে দেওয়া হোক। তা না হলে জেল থেকে ছাড়া পেয়ে ফের একই ঘটনা ঘটাবে। তবে আমরা এই ঘটনায় রাজনীতি চাই না”। এদিকে এদিন দুই অভিযুক্ত রুবি বিবি ও তার মা সুফিয়া বিবিকে বোলপুর আদালতে তুলে ১০ দিনের হেফাজত দাবি করে পুলিশ। বিচারক আট দিনের পুলিশ হেফাজত মঞ্জুর করেন বলে জানান সরকারি আইনজীবী ফিরোজ কুমার পাল। তিনি বলেন, “এটা একটা নৃশংস ঘটনা। পুলিশ প্রথমে অপহরণের ধারা দিয়েছিল। মৃতদেহ উদ্ধারের পর খুনের অভিযোগ যোগ করা হয়। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর ফের দুজনকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে”।

LEAVE A REPLY