বগটুই গ্রামে পর্যায়ক্রমে পাঠদান করবেন রামপুরহাট শহরের শিক্ষকদের একাংশ

0
173

পারমিতা মণ্ডল, রামপুরহাট, ৫ মে: অশিক্ষা দূর করে বগটুই গ্রামের বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে শিক্ষার আলো পৌঁছে দেওয়ার শপথ নিলেন রামপুরহাট শহরের শিক্ষকরা। বৃহস্পতিবার দুপুরে ইদের শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে এমনই শপথ নেন রামপুরহাট শহরের প্রতিষ্ঠিত স্কুলের শিক্ষকদের একাংশ। ২১ মার্চ রাত্রি সাড়ে আটটা নাগাদ বোমা মেরে খুন করা হয় তৃণমূলের বড়শাল গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান ভাদু শেখকে। বদলা নিতে গ্রামের ১০ টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। জীবন্ত অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় ১০ জনের। এরপরেই গ্রামে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। পড়াশোনা শিকেয় ওঠে। এই আবহে শিক্ষার আলো ফিরিয়ে দিতে উদ্যোগী হন তৃণমূলের রামপুরহাট ১ নম্বর ব্লক সভাপতি সৈয়দ সিরাজ জিম্মি। তিনি প্রথমে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের গ্রাম থেকে তুলে শহরে এনে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে দেন। পরীক্ষা চলাকালীন তাদের দেওয়া হয় কোচিং। থাকা খাওয়ারও ব্যবস্থা করা হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ। তাই এবার বর্তমান প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের মধ্যে বিনামূল্যে শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে উদ্যোগী হলেন শিক্ষকরা। জিম্মি বলেন, “উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের কোচিং দিয়েছিলেন যে সমস্ত শিক্ষকরা তাদের নিয়ে ইদের শুভেচ্ছা বিনিময় করা হল। তাঁরাই এদিন শপথ নিলেন পর্যায়ক্রমে গ্রামে গিয়ে পাঠদান করবেন বিনামূল্যে। রামপুরহাট জিতেন্দ্র লাল বিদ্যাভবনের ইতিহাসের শিক্ষক গৌতম চক্রবর্তী বলেন, “আমরা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্রছাত্রীদের সাধ্যমতো সাহায্য করেছি। এবার আমাদের শপথ গ্রামের কোন ছেলেমেয়েকে অশিক্ষার অন্ধকারে থাকতে দেব না। তাই আমরা গ্রামেই শিক্ষকরা ছেলেমেয়েদের বিনামূল্যে পাঠদান করব। আমাদের লক্ষ্য এই গ্রাম থেকে নজরকারা রেজাল্ট করা”। সৈয়দ সিরাজ জিম্মি বলেন, “আমরা গ্রামে শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে শিক্ষকদের কাছে পেয়েছি। তাদের উৎসাহের পাশে আমরা আছি। আমাদের দলের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের নির্দেশে শিক্ষা ব্যবস্থার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে শিক্ষকরা পর্যায়ক্রমে গ্রামে এসে শিক্ষা করবেন। এই গ্রাম থেকে মেধাবী ছেলেমেয়ে তৈরি করায় আমাদের লক্ষ্য”।

LEAVE A REPLY