উন্নয়নে আপস নয়, পুরুলিয়ায় জেলা শাসককে ধমক মুখ্যমন্ত্রীর

0
158

সাথী প্রামাণিক, পুরুলিয়া, ৩০ মে: বছরের পর বছর বেশ কিছু প্রকল্প শেষ হয় নি। এই রিপোর্ট পেতেই বেজাই চটলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ পুরুলিয়া জেলা সফরে এসে প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠক করেন তিনি। তাঁর জেলা সফর মানেই উন্নয়নে গতি আসা। এ বিশ্বাস পুরুলিয়ার ছিল। উন্নয়নে ঢিলেমি যে তিনি বরদাস্ত করবেন না, তা পরিস্কারভাবে প্রশাসনকেও জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী বুঝিয়ে দিয়েছেন, উন্নয়নের ক্ষেত্রে কোন আপোস তিনি করবেন না। একাধিক বিভাগের কাজে ঢিলেমির জন্য তাই ধমক খেতে হয়েছে পুরুলিয়ার জেলাশাসককে।
গুরুত্ব পেয়েছে পানীয় জল, রাস্তাঘাট নির্মাণ ও বিদ্যুৎ। তৈরী হতে চলেছে মানবাজার ও ঝালদায় মহকুমা শাসকের দপ্তর। সবমিলিয়ে সোমবার পুরুলিয়া রবীন্দ্রভবনের প্রশাসনিক সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উদ্বোধন করলেন ২৮৮কোটি ৩০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৩৫টি প্রকল্পের। এছাড়া শিলান্যাস হল ২০৬কোটি ৮৭ লক্ষ টাকার ৩৭টি প্রকল্প। খুশি পুরুলিয়া।
পুরুলিয়ার এই মঞ্চ থেকেই উত্তরবঙ্গের কয়েকটি প্রকল্পও উদ্বোধন করেন তিনি।
এদিন প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী চমক দিয়েছেন ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের বিরুদ্ধে ওঠা একাধিক অভিযোগের জীবন্ত প্রমাণ সঙ্গে নিয়ে এসে। বলরামপুর ও হুড়া এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, জমির মিউটেশনে বেনিয়ম হচ্ছে। অভিযোগ সরাসরি ওই ব্যক্তিদের মুখ থেকেই শুনিয়ে দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নিজের নামে জমি না থাকলে কৃষকরা ভাতা পান না। ভূমি দপ্তর জমি মিউটেশন যথাসময়ে না করায় বঞ্চিত হচ্ছেন গরীব কৃষকরা। মিউটেশন ঘিরে অবৈধ চক্রের সক্রিয়তারও অভিযোগ আনেন তিনি। পরিস্কার বলেন, এসব বরদাস্ত করা হবে না। প্রশাসনকে স্পষ্ট নির্দেশ দেন, পঞ্চায়েত সমিতি ও জেলা পরিষদের সদস্যদের নিয়ে কাজ করতে হবে। দরকার হলে স্থানীয় ভাষা জানেন এমন লোককে কাজে লাগাতে হবে। জেলাশাসককে নির্দেশ দেন, বাংলা সহায়তা কেন্দ্রগুলিতে যেন মানুষের পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়তা করে। পুরুলিয়ায় পর্যটন শিল্পের বিকাশে হোম স্টে ট্যুরিজম গড়ে তোলার উপর জোর দেন তিনি। বলেন, জেলায় সত্তরটি হোম স্টে আছে। এটা জেনে তিনি খুশি নন। এটা হাজার হলেও কম হবে।
শিল্পায়ন নিয়েও এদিন পুরুলিয়ার মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়ে দেন বাহাত্তর হাজার কোটি টাকার বিশাল শিল্প পরিকাঠামো গড়ে উঠতে চলেছে রঘুনাথপুরের জঙ্গলসুন্দরী কর্মনগরীতে। সেখানে প্রচুর শিল্প আসছে। রঘুনাথপুর পুরসভার চেয়ারম্যান তরনী বাউরীকে তিনি বলেন, শহর বাড়ছে, পরিকাঠামো বাড়াতে হবে। তবে শিল্পের ক্ষেত্রে যেন কেউ সমস্যা সৃষ্টি করতে না পারে।

LEAVE A REPLY