অমর একুশে

0
2324

 

আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী
আমি কি ভুলিতে পারি।

ছেলেহারা শত মায়ের অশ্রু গড়ায়ে ফেব্রুয়ারী
আমি কি ভুলিতে পারি।

 

দুর্গাপুর, ২১ ফেব্রুয়ারীঃ ২১ শে ফেব্রুয়ারি আমাদের বাঙ্গালিদের জন্য একটি গৌরব উজ্জ্বল দিন। ইতিহাসের এই দিনেই মাতৃভাষার জন্য রাজপথে জীবন দিতে হয়েছিল সালাম, বরকত ও রফিকসহ নাম না জানা আরও অনেককেই। তাদের জন্যই আজকে আমরা মন খুলে বাংলা বলছি, লিখছি। বিশ্বের ইতিহাসের বুকে মাতৃভাষার জন্য বীরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল এই বাঙালীরাই। আর তাই এই দিনটি আজ শুধু বাংলাদেশ স্মরণ করেনা। ২১ শে ফেব্রুয়ারি দিনটি স্বীকৃতি পেয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের। সারা বিশ্বই দিনটি স্মরণ করে।

রক্ত দিয়ে মায়ের ভাষার অধিকার আদায়ের মাস ফেব্রুয়ারী। ১৯৪৭ সালে দ্বিজাতি তত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তানের জন্মের পর থেকেই বঞ্চিত ও শোষিত পূর্ব-পাকিস্তানের জনগোষ্ঠী নিজের ভাষায় কথা বলার জন্য ১৯৪৭ সাল থেকে যে সংগ্রাম শুরু করে তা বিভিন্ন চড়াই উতরাই পেরিয়ে চূড়ান্তরূপ লাভ করেছিল ১৯৫২ এর ২১ শে ফেব্রুয়ারী। তবে ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বাঙ্গালী জনগোষ্ঠীকে অপেক্ষা করতে হয়েছে আরো দীর্ঘ ৫টি বছর। ১৯৫৬ সালের ২৬ শে ফেব্রুয়ারী পাকিস্তান সংবিধান উর্দুর পাশাপাশি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসাবে স্বীকৃতি প্রদান করে। দীর্ঘ সংগ্রামের পর অর্জিত হয় মায়ের ভাষায় কথা বলার স্বাধীনতা, আর এই ভাষা আন্দোলনের সাফল্যের পথ বেয়েই রোপিত হয় স্বাধীন বাংলাদেশের বীজ। নতুন প্রজন্মের অনেকেই শুধু ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারীকেই চেনে, এর পেছনের ধারাবাহিক আন্দোলনকে জানেনা। এর পরের কথাও অনেকের অজানা। আর এই না জানার সূত্র ধরেই আজ কেউ কেউ ভাষা সৈনিক হয়ে যান যারা মূলধারার ভাষা আন্দোলনের সাথে সম্পূর্ণরূপেই বিচ্ছিন্ন ছিলেন।