দু্র্গাপুর পুরসভা এলাকায় ভূগর্ভস্থ জল পাম্প দিয়ে তুলে ট্যাঙ্কে ভরে বিক্রির কারবার

0
119

বিশেষ প্রতিনিধি,দুর্গাপুরঃ নজরদারি শিথীল হতেই ফের পুরসভার দু’ নম্বর ওয়ার্ড বিজড়া – ধবনী গ্রাম যাওয়ার পথে রাস্তার দু’ধারে ভূগর্ভস্থ জল পাম্প দিয়ে তুলে ট্যাঙ্কে ভরে বিক্রীর কারবার শুরু হয়েছে। প্রতিদিন সকালে ছোট ও বড় ট্যাঙ্কারে জল ভর্তি করে বিভিন্ন বহুতল আবাসন ও কারখানায় সরবরাহ করা হচ্ছে। যে জায়গা থেকে ভূগর্ভস্থ জল তোলা হচ্ছে তার চারপাশে প্রচুর চাষের জমি আছে। কৃষকদের বক্তব্য যে ভাবে ভূগর্ভস্থ জল তোলা হচ্ছে তাতে এলাকায় জলের স্তর নেমে যাচ্ছে। ফলে আগামী দিনে চাষের জন্য জল পাওয়া যাবে না। পুরসভা ও প্রশাসনের কাছে একাধিকবার অভিযোগ করা হয়েছে। কিন্তু কোনও সুরাহা হয় নি। শুধু বিজড়া গ্রাম নয়। দুর্গাপুর শহরের আসপাশে ব্যাঙের ছাতার মত গজিয়ে ওঠা বহুতল আবাসনগুলিতে অবৈধ ভাবে ভূগর্ভস্থ জল তোলার অভিযোগ উঠেছে। কোনও আবাসনে একটি পাম্প বসানোর অনুমতি আছে। অথচ দুটি বা তিনটি পাম্প দিয়ে ভূগর্ভস্থ জল তোলা হচ্ছে। বিশেষ করে স্টিল পার্ক, কালিগঞ্জ, বামুনাড়া এলাকায় যথেচ্ছ ভাবে ভূগর্ভস্থ জল তুলে ব্যবহার করছেন বহুতলের বাসিন্দারা। বিজড়া গ্রামের অদূরে রাস্তার ধারে তিন – চারটি পাম্প বসিয়ে ভূর্গস্থ জল তুলে ট্যাঙ্কারে ভরে বিক্রী করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে গত দেড় বছর আগে পুরসভার জল দপ্তর অভিযান চালায়। ভূগর্ভস্থ জল উত্তোলন বন্ধ করে দেওয়া হয়। বেশ কিছুদিন জল তোলা বন্ধ ছিল। পুরসভা ও প্রশাসনের নজরদারি শিথীল হতেই ফের জল তোলা শুরু হয়েছে। এই প্রসঙ্গে ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নিজাম হোসেন মন্ডলকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন ‘দ্বিতীয়বার দুর্গাপুর ব্যারাজ বিপর্যয়ের সময় ওই জায়গা থেকে ভূগর্ভস্থ জল তুলে ট্যাঙ্কারে করে পুরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে সরবরাহ করা হয়েছিল। পরে জল তোলা বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিন্তু ফের জল তোলা হচ্ছে এই খবর আমার জানা নেই। যারা জল তুলছে তাদের সঙ্গে কথা বলব। অবৈধ ভাবে জল তুলতে নিষেধ করা হবে।’ পুরসভার জল দপ্তরের মেয়র পারিষদ দীপঙ্কর লাহা বলেন ‘২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নিজামের সঙ্গে কথা বলে অবৈধ ভাবে জল উত্তোলন বন্ধ করতে বলা হবে।’ অবৈধ ভাবে ভূগর্ভস্থ জল তোলার জন্য দুর্গাপুর শহরের আসপাশের এলাকায় জলের স্তর যে নেমে গেছে তা এবার গ্রীষ্মে টের পাওয়া গেছে। কালিগঞ্জ, বামুনাড়া, স্টিল পার্ক সহ একাধিক জায়গায় কুয়োর জল প্রায় শুকিয়ে গেছে। বামুনাড়া  এলাকার এক বাসিন্দা অনিন্দিতা সিনহা বলেন ‘বহুতল আবাসনগুলিতে পাম্প দিয়ে জল তুলে নেওয়ায় আমাদের এলাকায় অধিকাংশ বাড়ির কুয়োতে জলের স্তুল নেমে গেছে।’ রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রন পর্ষদের চেয়ারম্যান কল্যান রুদ্র এই প্রসঙ্গে বলেন ‘সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আমার কাছে অভিযোগ করলে অবশ্যই তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।’ 

LEAVE A REPLY