জলসঙ্কট মেটাতে মুকুটমনিপুর জলাধার থেকে ছাড়া হল জল দারকেশ্বর নদীগর্ভে

0
201

নিজস্ব প্রতিনিধি,বাঁকুড়াঃ তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে ওঠা বাঁকুড়ার রোদ – গরমের সাথে পাল্লা দিয়ে বাঁকুড়া জেলায় বেড়েছে জলাভাব।শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া দারকেশ্বর নদ শুকিয়ে কাঠ। শুকনো নদীগর্ভে বসানো গভীর নলকূপেও আর সেভাবে মিলছে না যথেষ্ট জল। এই জলাভাবকে মাথায় রেখেই মুকুটমনিপুর জলাধার থেকে জল এনে দারকশ্বর নদের নদীগর্ভ ভেজানোর বাঁকুড়া পুরসভার পরিকল্পনা অবশেষে বাস্তবের মুখ দেখতে চলেছে। গতকালই মুকটমনিপুরের কংসাবতী জলাধার থেকে জল ছাড়া হয়েছে। আগামীকালের মধ্যে সেই জল এসে পড়তে পারে দারকেশ্বর নদের গর্ভে। কংসাবতী জলাধার থেকে জল এসে দারকেশ্বর নদে পড়লে বাঁকুড়া শহরের জলসঙ্কট অনেকটাই মিটবে বলে আশা বাঁকুড়া পুরসভার। বাঁকুড়া জেলায় উত্তরোত্তর বাড়ছে তাপমাত্রার পারদ। গতকালের আড়াই মিনিটের ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টি বাদ দিলে গত আড়াই মাস ধরে বৃষ্টির মুখ দেখেনি জেলার মানুষ। এই পরিস্থিতিতে বাঁকুড়ার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া দারকেশ্বর নদে জলের চিহ্ন মাত্র নেই।এই দারকেশ্বর নদ থেকে পাঁচটি পাম্পিং স্টেশনের মাধ্যমে বাঁকুড়া শহরের একাংশে জল সরবরাহ করা হয়। নদী গর্ভ শুকিয়ে যাওয়ায় সেই পাম্পিং স্টেশনগুলি থেকে জল সরবরাহে সমস্যা শুরু হয়। যে কোনো সময় শহরের ওই অংশে জল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরী হওয়ায় আগেভাগেই ব্যবস্থা নেয় বাঁকুড়া পুরসভা। ৫২ কিলোমিটার দূরে থাকা কংসাবতী নদীর মুকুটমনিপুর জলাধার থেকে ক্যানেলের সাহায্যে জল নিয়ে এসে তা দারকেশ্বর নদে ফেলার জন্য সেচ দফতরকে চিঠি দেয় বাঁকুড়া পুরসভা। পুরসভার সেই অনুরোধ মেনে কংসাবতী জলাধারের  রাইট ব্যাঙ্ক মেন ক্যানেল দিয়ে গতকাল থেকে জল ছাড়তে শুরু করে কংসাবতী জলাধার কর্তৃপক্ষ। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় জল ছাড়ার ক্ষেত্রে সাময়িক সমস্যা তৈরী হলেও বাঁকুড়া পুরসভার আশা আগামী কালের মধ্যে কংসাবতীর ক্যানেলে ছাড়া জল এসে পড়বে দারকেশ্বর নদের গর্ভে।আর তেমনটা হলে বাঁকুড়া শহরে জল সংকটের আশঙ্কা অনেকটাই কমবে বলেই আশা পুরসভার।

LEAVE A REPLY