রোদে পুড়ছে পুরুলিয়া, জল স্তর নামছে হু হু করে

0
215

সাথী প্রামানিক,পুরুলিয়া,২৬ এপ্রিল: ৪১,৪২,৪৩ ডিগ্রি এখন নিত্য দিনের পুরুলিয়ার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হচ্ছে। স্বাভাবিক ভাবেই দিন দিন সূর্যের তাপে পুড়ছে কাঁকর পাথর মাটির জেলা পুরুলিয়া। সকাল থেকেই সূর্যের তাপে, প্রখর রোদে নাভিশ্বাস উঠছে পুরুলিয়াবাসির। জলাশয়গুলো শুকিয়ে আসছে। কাঁসাই নদী গর্ভে শুকিয়ে মরুভূমির আকার নিয়েছে। জলস্তর নেমে যাওয়াতে ওই নদী বক্ষে গভীর নলকূপ থেকে জল উত্তোলন অনিয়মিত হয়ে পড়েছে। এখান থেকেই পুরুলিয়া শহরে নলবাহিত পানীয় জল সরবরাহ করে পুরসভা। যদিও এই পরিকাঠামো গড়া এবং দেখভালের দায়িত্বে রয়েছে মিউনিসিপ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিরেক্টরেট। পুরুলিয়া শহরে বাড়িতে জলের সংযোগ থাকলেও প্রায় দিনই নির্জলা থাকছে। রাস্তার টাইম কল কোথাও জল বয়ে অপচয় হচ্ছে কোথাও জলের জন্য হাহাকার দেখা দিয়েছে। জলের জন্য উত্তেজনাকর পরিস্থিতি দেখা গিয়েছে। নর্দমার পাশে নিচুতে থাকা টাইম কলে জল নেওয়ার অপেক্ষায় থাকতে হয় মহিলাদের। পুরুলিয়া পুরসভার চেয়ারম্যান নবেন্দু মা বলেন, “জল উত্তোলন কম হচ্ছে। সব জায়গায় যথেষ্ট পরিমাণে জল সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। আমরা একটা দল তৈরি করেছি। মিউনিসিপ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিরেক্টরেট, পুরসভার বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গড়া ওই ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট টিম বিভিন্ন ভাবে খতিয়ে দেখছে যাতে বেশি করে নদী বক্ষ থেকে জল তোলা যায়।  যে সব এলাকায় জল সরবরাহ বেশি যাচ্ছে না সেখানে জলের ট্যাংক দিয়ে সমস্যা মেটানোর চেষ্টা চলছে।” এছাড়া শিলাই, কুমারী, টটকোর মতো ছোট নদীগুলি চৈত্রের আগেই শুকিয়ে কাঠ হয়ে গিয়েছে। দ্বারকেশ্বর ছাড়াও জেলায় বয়ে যাওয়া সুবর্ণরেখা, দামোদর নদ তির তির করে বয়ছে। সেইভাবে কালবৈশাখীর দেখা নেই। গত সপ্তাহে আগন্তুক হয়ে কম সময়ের মধ্যে জেলার কয়েকটি ব্লকে দাপট দেখায় ক্ষণিকের কাল বৈশাখী। ওই দিন এক ধাক্কায় তাপমাত্রা ৫ ডিগ্রি কমে যাওয়ায় একদিনের জন্য স্বস্তি পেয়েছিলেন পুরুলিয়াবাসি। কিন্তু যে তিমিরে ছিল সেই তিমিরেই রয়ে গিয়েছে গরম। দাবদাহ ভয়ংকর আকার নেওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে জেলায়। গরমে পানীয় জলের সমস্যা পুরুলিয়া শহরে শুধু নয় গ্রামাঞ্চলে সমস্যা আরও বেশি। ভৌগলিকভাবে ছোটনাগপুর মালভূমির অন্তর্গত এই জেলার গরমের চালচিত্র এটাই। স্বাভাবিক ভাবেই এখন কালবৈশাখীর তাকিয়ে পুরুলিয়াবাসি।

LEAVE A REPLY