সরকারি দপ্তরের ভুলে ‘দত্ত’ হলো ‘কুত্তা’, কুকুর সেজেই অভিনব প্রতিবাদ বাঁকুড়ার যুবকের

0
37

নিজস্ব প্রতিনিধি,বাঁকুড়াঃ হঠাৎই দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে ঘেউ ঘেউ আওয়াজ। আওয়াজ অবশ্য কুকুর করছে না, করছে একজন যুবক, সামনে জয়েন্ট বিডিও। প্রথমে দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে আসা অনেকেই বিষয়টি ঠাউর করতে পারেনি। পরে অবশ্য সমস্যা জানতে পেরে প্রতিবাদকে কুর্নিশ জানিয়েছেন। মানুষের সমস্যা সমাধানের জন্যই বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে বছরে দুবার দুয়ারে সরকার ক্যম্প করা হচ্ছে। কিন্তু সেখানে গিয়েও অপমান হেনস্থার শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে সরকারি আধিকারিকদের গা ছাড়া মনোভাবের জন্য সেটা আরেকবার প্রমাণ হল বাঁকুড়ার শ্রীকান্তির ঘটনায়। ৪০ বছর আগে বাবা মঙ্গল দত্ত ও মা হীরা দত্তের পুত্র সন্তান জন্ম হয়। ডাক্তারের অনুরোধেই স্বাদ করে ছেলের নাম রেখেছিলেন শ্রীকান্তি কুমার দত্ত। কিন্তু সরকারি আধিকারিকদের হাতের সামান্য টোকায় ‘দত্ত’ পদবী পাল্টে হলো ‘কুত্তা’। রেশন কার্ডে শ্রীকান্তির নাম শ্রীকান্তি কুমার কুত্তা। তাই নাম অনুসারে কুত্তা অর্থাৎ কুকুর সেজে অভিনব প্রতিবাদ বাঁকুড়ার যুবকের। বাঁকুড়ার কেশিয়াকোল এলাকার বছর চল্লিশ এর যুবক শ্রীকান্তি কুমার দত্ত। শিক্ষিত বেকার যুবক কোন সরকারি কাজের সন্ধান না পেয়ে,বাড়ির নিচেই বাবার তৈরী দশকর্মা দোকানে বসেন।বাবা মা ও শ্রীকান্তির সকলে মিলে এই দোকান থেকেই যা আয় হয় তাতেই চলে যায় কোনরকমে পাঁচজনের সংসার। তবে শ্রীকান্তির সমস্যা সংসার চালাতে নয়, সমস্যা অন্য জায়গায়। শ্রীকান্তির সমস্যা পদবী বিভ্রাট। আধার কার্ড এবং ভোটার আইডি কার্ডে শ্রীকান্তি কুমার দত্ত থাকলেও খাদ্য নিয়ামক দপ্তরের তৈরি করা সাম্প্রতিক কালের ই-রেশন কার্ডে তার নাম এসেছে শ্রীকান্তি কুমার কুত্তা।গত পাঁচ বছরে বহুবার নাম সংশোধনের চেষ্টা করেছেন শ্রীকান্তি। কিন্তু কোনোভাবেই বাবা মায়ের দেওয়া সঠিক নাম আসছে না রেশন কার্ডে। এই সমস্যার কথা জানিয়ে বারবার ধরে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে তদবির করেছে প্রায় ৫ বছর ধরে এমনটাই দাবি শ্রীকান্তির। প্রথমে জেলা খাদ্য নিয়ামক দপ্তরে রেশন কার্ডের জন্য আবেদনে ২০১৫ সালে শ্রীকান্তি মন্ডল নামে কার্ড আসে। এরপর ২০২১ সালে দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে আধার কার্ড ভোটার আইডি কার্ডের নকলসহ আবেদন করে শ্রীকান্তি। সেখানেও নাম আসে শ্রীকান্ত কুমার দত্ত। এরপর আবার ২০২২ এর দুয়ারে সরকার ক্যাম্পের আবেদন করে নাম পরির্বতনের শ্রীকান্তি।এরপর আবার সেই নাম বিভ্রাট। এবার আবার নাম ঠিক করা হলেও পদবী দত্ত জায়গায় লেখা হয় কুত্তা। এরপরও রেশন কার্ডে পদবী ঠিক করতে বারবার ধরে সরকারি দপ্তরে আবেদন নিবেদন করেও কোন লাভ হয়নি। বাঁকুড়ার দু নাম্বার ব্লকের বিকনা অঞ্চলেই ডোকরা শিল্প গ্রামে বসেছে দুয়ারে সরকার ক্যাম্প। সেখানেই অভিনব প্রতিবাদের ভাবনা আসে শ্রীকান্তের মাথায়।যেমন ভাবনা তেমনি কাজ। যখন সরকার তার পদবী কুত্তা অর্থাৎ কুকুর রেখেছে সেক্ষেত্রে কুকুর হয়েই তিনি প্রতিবাদ জানাবেন। সেই মতো কুকুরের ঘেউ ঘেউ আওয়াজই তার প্রতিকী প্রতিবাদ জানায় সে। দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে যেই দেখাশুনা করতে আসেন দু নাম্বার ব্লকের সহকারি ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক বিমান কর তাকে দেখেই ঘেউ ঘেউ করতে শুরু করেন শ্রীকান্তি। প্রথমে কিছুটা হকচকিয়ে যান জয়েন্ট বিডিও, পরে অবশ্য তার কাগজপত্র দেখে ঘেউ ঘেউ করার কারণ বুঝতে পারেন। অবিলম্বে এই ভুলের ব্যবস্থা করবেন এমন আশ্বাসও দেন। কিন্তু নাছোড়বান্দা শ্রীকান্তি কুমার দত্ত। যতক্ষণ জয়েন ভিডিও বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি উপভোক্তাদের জন্য তৈরি করা স্টল ঘুরে দেখছেন ততক্ষণ তার পিছনে পিছনে কুকুরের মতই ঘেউ ঘেউ করতে থাকেন শ্রীকান্তি। এ ব্যাপারে অবশ্য কোন সরকারি আধিকারিক মুখ খুলতে চাননি শ্রীকান্তির দাবি এটা ছিল একটা প্রতীকী প্রতিবাদ। আগামী দিনে যাতে সরকারি চেয়ারে বসে এই ধরনের ভুল না করেন আধিকারিকরা। এক্ষেত্রে গত পাঁচ বছর মানসিক যন্ত্রণায় ভুগতে হয়েছে শ্রীকান্তিকে। শুনতে হয়েছে টোন টিটকারি। শ্রীকান্তির আশা সংবাদ মাধ্যম যেভাবে উঠে পড়ে লেগেছে এবার হয়তো শ্রীকান্তি কুমার কুত্তা তার নিজের প্রকৃত নাম শ্রীকান্তি কুমার দত্ত নামকরণ পাবে। শ্রীকান্তের মায়ের আক্ষেপ আদর করে নাম রেখেছিলেন সেই নাম সরকারি আধিকারিকদের ভুলে পাল্টে কুকুর করে দিলো। শুধু যে তারা শ্রীকান্তিকে অপমান করেছে এমনটা নয়, অপমান করেছে শ্রীকান্তির বাবা মাকেও।

LEAVE A REPLY