সোনপুর বাজারিতে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, হুড়মুড়িয়ে ভেঙ্গে পড়লো কোল হ্যান্ডেলিং প্ল্যান্টের কাঠামো

0
115

সংবাদদাতা, পাণ্ডবেশ্বরঃ আচমকাই হুড়মুড়িয়ে ভেঙ্গে পড়ল কোল হ্যান্ডেলিং প্লান্ট এর কাঠামো। অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন প্রায় দেড় শতাধিক শ্রমিক। কর্তৃপক্ষের গাফিলতিতেই এই দুর্ঘটনা বলে অভিযোগ শ্রমিকদের। ইসিএলের সোনপুর বাজারি প্রজেক্টের ঘটনা। সোমবার বেলা একটা নাগাদ ভয়াবহ দুর্ঘটনার সাক্ষী থাকলো সোনপুর বাজারি প্রকল্পের শ্রমিকেরা। ওই সময় আচমকাই হুরমুড়িয়ে ভেঙে পরে কোল হ্যান্ডেলিং প্লান্ট (সিএইচপি ) এর পুরো কাঠামোটি। সূত্র মারফত জানা গেছে প্রকল্পের কোল হ্যান্ডেলিং প্লান্টে প্রতিদিন প্রায় দেড়শ জন স্থায়ী ও অস্থায়ী শ্রমিক কাজ করেন।  দুর্ঘটনার সময়ে টিফিন টাইম থাকায় শ্রমিকেরা অন্যত্র টিফিন করছিলেন। কাজের সময় দুর্ঘটনা ঘটলে প্রচুর শ্রমিকের মৃত্যু হতে পারত বলে আশঙ্কা কর্মীদের। প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৬ সালে কোল হ্যান্ডেলিং প্লান্টটি প্রথম চালু হয়। খনিতে উৎপাদিত কয়লা, বেল্টের মাধ্যমে সরাসরি এসে জমা হয় কোল হ্যান্ডেলিং ফ্যানেলে। নিচে দাঁড়িয়ে থাকা ডাম্পারে লোড হয়ে সেই কয়লা পৌঁছে যায় সরাসরি কোল সাইডিং-এ। দীর্ঘদিন আগে প্লান্টটি চালু হলেও প্রয়োজনীয় সংস্কার হয়নি। অথচ নিয়ম অনুযায়ী এটি নিয়মিত সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। সংস্কারের ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের গাফিলতির জন্যই এত বড় বিপর্যয় হল বলে অভিযোগ শ্রমিকদের। দুর্ঘটনার পর তড়িঘড়ি সেখানে পৌঁছান তৃণমূল প্রভাবিত শ্রমিক সংগঠন কে কে এসির নেতারা। শ্রমিক নেতা রামচরিত্র পাসওয়ান দুর্ঘটনার জন্য সরাসরি সোনপুর বাজারি কর্তৃপক্ষের আধিকারিকদের দায়ী করে বলেন, ম্যানেজমেন্ট উৎপাদনের ব্যাপারে সক্রিয় থাকলেও শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে মোটেও চিন্তিত নয়। দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও দোষী আধিকারিকদের উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানান চরিত্রবাবু। এত বড় দুর্ঘটনা ঘটলেও সময় মতো কোন আধিকারিক ঘটনাস্থলে আসেনি বলে অভিযোগ। বেশ কিছুক্ষণ পর সেখানে আসেন সংস্থার সেফটি অফিসার মনোজ কুমার। দুর্ঘটনা বিষয়ে সংবাদ মাধ্যমের একাংশ তাকে প্রশ্ন করলে তিনি উত্তর এড়িয়ে যান। ফোনে যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, দুর্ঘটনার পেছনে কোন গাফিলতি থাকলে তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

LEAVE A REPLY