দুর্গাপুরের প্রথম দুই মহিলা রেফারি প্রীতি মৃধা ও সুখি টুডু

0
260

বিশেষ প্রতিনিধি,দুর্গাপুরঃ দিন কয়েক আগে কুড়ুলিয়া ডাঙাল ময়দানে মহকুমা ক্রীড়া সংস্থা পরিচালিত ফুটবল লিগের খেলা দেখতে গিয়ে অবাক হয়েছিলেন দর্শকরা। প্লেয়াররাও বিস্মিত। রেফারির সঙ্গে সহকারি রেফারি হিসাবে মাঠে নামছেন দুই তরুনী। আন্তর্জাতিক ফুটবলের আসরে মহিলা রেফারি দেখা গেছে। দেশের কয়েকটি রাজ্য সহ কলকাতা ময়দানেও মহিলা রেফারি আছেন। কিন্তু দুর্গাপুরের মাঠে মহিলা রেফারি! এমএএমসি টাউনশিপের বাসিন্দা প্রীতি মৃধা ও জেমুয়া গ্রামের চাপাডাঙার বাসিন্দা সুখি টুডু দুর্গাপুরের প্রথম মহিলা রেফারি। গত চার মাস ধরে রেফারির প্রশিক্ষন নিচ্ছেন তাঁরা। লেখা ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। প্রাকটিক্যাল পরীক্ষার জন্য মাঠে সহকারি রেফারি হিসাবে খেলা পরিচালনা করছেন। ১৫টা খেলা সফল ভাবে সম্পন্ন করতে পারলে পেশাদার রেফারির স্বীকৃতি পাবেন দুই তরুনী। দুর্গাপুর রেফারি অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক আশিষ মন্ডল বলেন, ‘প্রীতি চারটে ও সুখি দুটি খেলায় সফল ভাবে পরিচালনা করেছে। ভাল রেফারি হওয়ার দক্ষতা আছে ওদের মধ্যে।’ গ্যামনব্রিজ ফ্রেন্ডস ক্লাবের সেক্রেটারি মুকুট নাহা বলেন, ‘আমাদের দলের খেলার সময় মাঠে মহিলা সহকারি রেফারি দেখে অবাক হয়েছিলাম। খোঁজ নিয়ে জানতে পারি ওরা রেফারির প্রশিক্ষন নিচ্ছে। ভালভাবে খেলা পরিচালনা করেছে।’ প্রীতি ও সুখি দু’জনেই একসঙ্গে এমএএমসি মাঠে ফুটবল খেলতেন। সেখানে এক ব্যক্তি তাদের রেফারি হওয়ার জন্য প্রশিক্ষন নিতে বলেন। তারপর থেকে প্রশিক্ষন শুরু হয়। দু’জনেই স্বপ্ন দেখেন কলকাতা ময়দান সহ দেশের বিভিন্ন মাঠে রেফারি হিসাবে খেলা পরিচালনা করবেন। দুই তরুনীর পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভাল নয়। প্রীতির বাবা মারা গেছেন দশ বছর আগে। মা একটি মেসে রান্না করেন। তাতে যা রোজগার হয় তাই দিয়ে চারজনের সংসার চলে। প্রীতি বলেন, ‘দুর্গাপুর গর্ভমেন্ট কলেজ থেকে স্নাতক হয়েছি। আগামী দিনে রেফারির সাথে গেম টিচারের প্রশিক্ষন নেওয়ার ইচ্ছে আছে। প্রথমদিন মাঠে নামার সময় টেনশন হচ্ছিল। দর্শকরাও অবাক হয়ে আমাদের দেখছিলেন। এখন আর কোনও অসুবিধা হয় না।’ সুখির বাড়িতে বৃদ্ধ বাবা মা সহ ১৩ জনের পরিবার। দাদাদের রোজগারে কোনও রকমে সংসার চলে। আর্থিক অনটন ও শারীরিক অসুস্থতার জন্য উচ্চমাধ্যমিকের পর আর পড়াশোনা করা সম্ভব হয় নি। সুখি বলেন, ‘ছোট থেকে ছেলেদের সঙ্গে ফুটবল খেলতাম। হাফ প্যান্ট আর জামা পড়ে মাঠে যেতাম যখন পড়ার লোকেরা কটুক্তি করত। এখন খেলার মাঠে রেফারির ভূমিকায় দেখে কেউ আর কটুক্তি করে না।’

LEAVE A REPLY