কোটশিলা বনাঞ্চলে বনবিভাগের ট্র্যাপ ক্যামেরায় ধরা পড়লো মাদি চিতাবাঘ সহ প্রচুর বন্য বিরল প্রাণী

0
126

সাথী প্রামানিক, পুরুলিয়া, ৪ জুন: পুরুলিয়ার কোটশিলা বনাঞ্চলের সিমনি বিটের জাবর পাহাড়-জঙ্গলে জোড়া চিতাবাঘের রহস্যভেদ হল। বছর দুই ধরে নানা জল্পনার পর বনবিভাগের ট্র্যাপ ক্যামেরায় ধরা পড়লো মাদি চিতাবাঘ । তাও আবার দিনের আলোয়। একই ট্র্যাপ ক্যামেরায় দুটি চিতাবাঘের পৃথক পৃথক ছবি। একটি রাতের অন্ধকারে। আরেকটি ভোরের আলোয়। গত ২৭ জুন, রাত ১ টা ৫৫ মিনিট ৪১ সেকেন্ডে যে চিতাবাঘের ছবি ট্র্যাপ ক্যামেরায় বন্দি হয় তা একেবারে হৃষ্টপুষ্ট। যা বারবার ধরা দিয়েছে শিকারের সামনে। শিকার খাওয়ায় ছবিও আগে ধরা পড়েছিল।গত ২৯ জুন ভোর চারটে ৫৮ মিনিট ৩৮ সেকেন্ডে ধরা পড়ে মাদি চিতাবাঘটির। এটা খানিকটা লম্বাটে গড়নের। সেইসঙ্গে উচ্চতাতেও ছোট। পুরুষ ও মাদি চিতাবাঘের পার্থক্য যেমনটা হয় ঠিক তেমনই। পুরুলিয়া বনবিভাগের ডিএফও দেবাশিস শর্মা বলেন, “জোড়া চিতাবাঘের সম্ভাবনা ছিলই। ট্র্যাপ ক্যামেরায় ধরা পড়া ছবির মধ্য দিয়ে সেটা অনেকাংশই নিশ্চিত হয়ে গেল। তবুও আমরা সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত হতে বর্ষার মরশুমে পায়ের ছাপ নেব। সেই সঙ্গে ট্র্যাপ ক্যামেরার মাধ্যমে ওই জোড়া চিতাবাঘ এক ফ্রেমে ধরা দেয় কিনা, সেই নজরদারি চলছে ধারাবাহিকভাবে।” একই সঙ্গে তিনি আরও জানান, গ্রামবাসীকে সতর্কতার সঙ্গে জঙ্গলে চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি রাত ন’টা ৫১মিনিটে ওই ট্র্যাপ ক্যামেরায় প্রথম ধরা দিয়েছিল হৃষ্টপুষ্ট পুরুষ চিতাবাঘটি। তার ঠিক দু’মাস পরে ২০ এপ্রিল রাত ৭ টা ২০ মিনিটে ফের ট্র্যাপ ক্যামেরায় ধরা দেয় সে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে এই জাবর গ্রামের জঙ্গলে বনজ সম্পদ সংগ্রহ করতে গিয়ে এক মহিলা নিজের চোখে দেখেছিলেন জোড়া চিতাবাঘের সঙ্গে শাবক। তবে ভিত্তিহীন বলে তখন অনেকেই উড়িয়ে দিয়েছিলেন তখন। সেবার কোনও রকমে জঙ্গল থেকে পালিয়ে বেঁচেছিলেন তিনি। অবশ্য কিছু গবাদি গায়েব হওয়ার পর থেকে এলাকায় চাউর হয়ে যায় সিমনি বিটের জাবর পাহাড়-জঙ্গলে জোড়া চিতাবাঘ রয়েছে। পুরুলিয়া বনবিভাগ প্রথম থেকেই এই জোড়া চিতা বাঘের সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেয়নি। এবার সেই সম্ভাবনাই সত্যি হয়ে গেল। সেইসঙ্গে সিমনি বিটের জঙ্গলে এই জোড়া চিতাবাঘ প্রমাণ করে দিল কোটশিলা বনাঞ্চলের জঙ্গল ক্রমশ বাড়ছে। ট্র্যাপ ক্যামেরায় ধরা পড়া এই জোড়া চিতাবাঘের ছবি এলাকার বাসিন্দারা দেখতে পাওয়ায় পর জাবর গ্রামের বাসিন্দা নিশ্চিত হয়েছেন যে গ্রামের পাহাড়-জঙ্গলেই রয়েছে স্ত্রী ও পুরুষ চিতা বাঘ। মাঝেমধ্যে গরু, ছাগল খেয়েই চলেছে ওই বন্যরা। তাঁরা চান ওই দুটি বাঘ এই জঙ্গলে ভালভাবে থাকুক।

LEAVE A REPLY