গন্ধেশ্বরী সংস্কার হলেও, খাল সংস্কারে উদ্যোগ নেই, জবর দখল হয়ে যাওয়া খাল পরিদর্শনে এসে সংস্কারের দাবি বিজেপি সাংসদের

0
155

নিজস্ব প্রতিনিধি,বাঁকুড়া: মজে যাওয়া গন্ধেশ্বরী নদী সংস্কারের কাজ শুরু করেছে সেচ দফতর। কিন্তু গন্ধেশ্বরী নদীতে পড়া খাল সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেই প্রশাসনের। অথচ বাঁকুড়া শহরের একটা বড় অংশে বন্যার অন্যতম কারন এই খাল। দিনে দিনে জমি মাফিয়াদের হাতে ক্রমশ জবরদখল হতে বসেছে খালটি । খালটির অবস্থা সরেজমিনে খতিয়ে দেখে দ্রুত তা সংস্কারের দাবি জানালেন বাঁকুড়ার সাংসদ কেন্দ্রের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুভাষ সরকার। লোকসভা ভোট আসতেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর নাটক কটাক্ষ তৃনমূলের। বাঁকুড়া শহরের উত্তর প্রান্ত দিয়ে বয়ে গেছে গন্ধেশ্বরী নদী। বাঁকুড়া শহরের একাংশের বৃষ্টির জল জুনবেদিয়া এলাকার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া একটি খালের মাধ্যমে সরাসরি গিয়ে পড়ে গন্ধেশ্বরী নদীতে। জুনবেদিয়া এলাকার নিকাশি ব্যবস্থার মূল মেরুদন্ড হিসাবেই দেখা হয় এই খালকে। কিন্তু গত প্রায় এক দশক আগে থেকে দ্রুত হারে জুনবেদিয়া এলাকায় ঘন বসতি গড়ে উঠতে শুরু করে। পাল্লা দিয়ে এলাকায় বাড়তে থাকে জমি মাফিয়া দের দৌরাত্ম। ব্যাক্তি মালিকানাধীন জমির পাশাপাশি সরকারী নথিতে খাল হিসাবে উল্লেখ থাকা ওই খালের পাড় সহ খালের গর্ভ বিক্রি করে দিতে থাকে জমি মাফিয়ারা। খাল পাড়ের বাসিন্দাদের একাংশ খালের দুপাশ জবরদখল করে গড়ে তোলে সীমানা পাঁচিল। ফলে ক্রমশই কমতে থাকে খালের পরিসর। একসময় যে খাল ছিল প্রায় ৪০ ফুট চওড়া এখন একাধিক জায়গায় তা গিয়ে ঠেকেছে আট থেকে দশ ফুটে। বহু জায়গায় মাটি ফেলে ভরাট করে দেওয়া হয়েছে খালের জল বয়ে যাওয়ার অংশ। খালের মূল অংশ এভাবে রুদ্ধ হয়ে যাওয়ায় বর্ষার বাড়তি জলে ফি বছর বন্যা পরিস্থিতি তৈরী হয় বাঁকুড়া শহর লাগোয়া জুনবেদিয়া এলাকায়। বছর দুয়েক আগে খালের জলের তোড়ে জুনবেদিয়া এলাকায় হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে একটি দোতলা বাড়ি। তারপর স্বাভাবিক ভাবে একটু নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর খাল জবরদখল মুক্ত করার কাজে হাত লাগায়নি প্রশাসন। সম্প্রতি গন্ধেশ্বরী নদী সংস্কারের কাজ শুরু করেছে সেচ দফতর। এই পরিস্থিতিতে ফের দাবি উঠছে খাল সংস্কারের। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুভাষ সরকার এই খাল জবরদখলের জন্য স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রশাসনকে দায়ী করে খাল সংস্কারের দাবি তোলেন। স্থানীয় জুনবেদিয়া গ্রাম পঞ্চায়েত জবরদখলের কথা মানতে নারাজ। পাশাপাশি পঞ্চায়েতের দাবি সবসময় খালের উপর নজরদারি চালানো তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তৃনমূলের দাবি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও তাঁর দলের বিধায়কদের এলাকায় দেখা যায়না। লোকসভা নির্বাচনের আগে সংবাদ মাধ্যমে আসতে এই ধরনের দাবি তুলছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। স্থানীয় মানুষের দাবি রাজনৈতিক তরজা নয় এলাকার বন্যা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে দ্রুত জুনবেদিয়া খাল জবরদখল মুক্ত করে সংস্কারের কাজ শুরু করা হোক।

LEAVE A REPLY