গ্রাম ষোল আনার ধার্য চাঁদা দিতে না পারায় জরিমানা ১০ হাজার টাকা,সেটাও দিতে না পারায় নিঃসন্তান বিধবাকে একঘরে করা হল

0
264

নিজস্ব প্রতিনিধি,বাঁকুড়া: সংকীর্তন উপলক্ষে গ্রামের আর পাঁচটা পরিবারের মতো তাঁরও চাঁদা ধার্য হয়েছিল পাঁচশো টাকা। সেই টাকা দিতে পারেননি নিঃসন্তান বিধবা। দুশো টাকা চাঁদা দিতে গেলে গ্রামবাসীদের সাথে বচসা বাধে। সেই বচসার অপরাধে নিঃসন্তান ওই বিধবার জরিমানা ধার্য হয় দশ হাজার টাকা। সেই জরিমানাও দিতে না পারায় এবার নিঃসন্তান ওই বিধবা সত্তোর্ধ মহিলাকে সামাজিক বয়কটের অভিযোগ উঠল । অভিযোগ সামাজিক বয়কটের শিকার হন ওই মহিলার এক আত্মীয়ের পরিবারও। ঘটনা বাঁকুড়ার বেলিয়াতোড় থানার কোদালিয়া গ্রামের। কোদালিয়া গ্রামের বাসিন্দারা বৈশাখ মাস উপলক্ষে গ্রামে আয়োজন করেছিলেন হরিনাম সংকীর্তনের। সেই উপলক্ষে গ্রামের প্রতিটি পরিবারের জন্য ধার্য হয় পরিবারপিছু পাঁচশো টাকা চাঁদা। শারিরীক অসুস্থতার চিকিৎসায় নাজেহাল গ্রামের নিঃসন্তান বিধবা আদরী পাল সেই চাঁদা দিতে পারেননি। গ্রামেই থাকা অপর এক আত্মীয়ের হাতে পাঁচশোর বদলে দুশো টাকা আদরী পাল চাঁদা হিসাবে গ্রাম ষোল আনার কাছে পাঠালে গ্রাম ষোল আনা সেই চাঁদা তো গ্রহণ করেইনি উলটে তা নিয়ে বৃদ্ধার আত্মীয়ের সাথে তুমুল বচসা হয় বলে অভিযোগ। আদরী পালের ওই আত্মীয় চাঁদা নিয়ে ষোলআনার সাথে বচসা করেছে এই অপরাধে গ্রাম ষোল আনা আদরী পালকে দশ হাজার টাকা জরিমানা করে। সেই জরিমানার টাকা দিতে না পারায় অভিযোগ আদরী পাল ও তাঁর আত্মীয়ের পরিবারকে সামাজিক ভাবে বয়কটের নিদান দেয় গ্রাম ষোল আনা। গ্রামে রীতিমত ঢ্যাঁড়া পিটিয়ে ওই দুটি পরিবারকে সামাজিক বয়কটের কথা ঘোষণা করা হয় বলেও অভিযোগ। মধ্যযুগীয় এই বর্বরতার বিরুদ্ধে বিচার চেয়ে স্থানীয় পঞ্চায়েত থেকে শুরু করে থানা, পুলিশ সুপার, বিডিও, জেলা শাসক সহ বিভিন্ন স্তরে আবেদন জানিয়েছেন বৃদ্ধা আদরী পাল। কিন্তু অভিযোগ সমস্যা যে তিমিরে ছিল আজো সমস্যা রয়ে গেছে সেই তিমিরেই। সামাজিক বয়কটের কথা স্বীকার না করলেও গ্রাম ষোল আনা জরিমানার অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে নিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পদক্ষেপের আস্বাস দিয়েছে বাঁকুড়া সদর মহকুমা প্রশাসন।

LEAVE A REPLY