সারা ভারত আন্তঃ বিশ্ববিদ্যালয় জিমনাস্টিক প্রতিযোগীতায় বাংলার মুখ উজ্জ্বল করল বর্ধমানের রোজিনা মির্জা

0
203

নিজস্ব প্রতিনিধি,বর্ধমানঃ ইণ্ডিয়ান ইউনিভার্সিটি অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত সারা ভারত আন্তঃ বিশ্ববিদ্যালয় জিমন্যাস্টিক প্রতিযোগীতা ২৯ মার্চ শুরু হয় পাঞ্জাবের অমৃতসরে। সেখানেই ৩১ মার্চ অনুষ্ঠিত হয় চূড়ান্ত পর্বের প্রতিযোগীতা। প্রতিযোগীতায় সার্বিক ভাবে দ্বিতীয় স্থান লাভ করার জন্য বঙ্গতনয়া রোজিনা ‘রৌপ্য পদক’ লাভ করেছে। এছাড়াও টেবিল ভল্টে প্রথম স্থান অর্জন করা ও টিম চাম্পিয়ান হওয়ার জন্যেও রোজিনা দুটি ’স্বর্ণ পদক’ ও ট্রফি লাভ করেছে।রোজিনার এই সাফল্যে খুশি তাঁর কোচ, পরিবার পরিজন ও গুরুনানক দেব ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ। রোজিনা মির্জার বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের রায়নার নাড়ুগ্রাম পঞ্চায়েতের শংকরপুর গ্রামে। তাঁর বাবা মির্জা কাশেম আলী পেশায় রাজমিস্ত্রী। মা সাবিনা মির্জা সাধারণ গৃহবধূ।কাশেম আলীর তিন মেয়ের মধ্যে রোজিনা সবার ছোট। ছোট বয়স থেকেই রোজিনার জিমনাস্টিক্সের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। তখন  তাঁর কাকা মির্জা হাসেম আলীর সহযোগীতা নিয়ে গ্রামের মাঠে জিমনাস্টিক অনুশীলন করতো। ওই সময়েই জিমনাস্টিকে তাঁর প্রতিভার প্রকাশ ঘটতে শুরু করে।রোজিনা গ্রামের স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশুনা করে। এর পর পরিবারের লোকজন তাঁকে কলকাতার সুকান্তনগর বিদ্যানিকেতনে ভর্তি করেন। সেখানে পড়াশুনার পাশাপাশি রোজিনা কলকাতার ’সাইয়ে’ জিমনাস্টিকের কোচিং নেওয়াও শুরু করে। কঠোর অনুশীলন করে স্কুল জীবনেই রোজিনা জিমনাস্টিকে ৪ বার ’বেঙ্গল চাম্পিয়ন’ হয়। পরে ২০১৫ সালে জাতীয় স্তরের প্রতিযোগীতায় অংশ নিয়ে রোজিনা স্বর্ণ পদক ছিনিয়ে নিয়ে আসে।কলকাতার স্কুল থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার পর সেখানকার কলেজে বি,প্রথম বর্ষে ভর্তি হয় রোজিনা। কলকাতায় অনুশীলন করার সময়ে সে পায়ে গুরুতর চোট পায়। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর পায়ের চিকিৎসা চলে। তার কারণে তাঁর কলেজ যাওয়াও বন্ধ হয়ে থাকে। পায়ের চোট পুরোপুরি সারলে তারপর ২০২০ সালে রোজিনা পাঞ্জাবের গুরুনানক দেব ইউনিভার্সিটি অধীন ’অমৃতসরে খালসা কলেজে’ বি এ প্রথম বর্ষে ভর্তি হয়।পাঞ্জাবে থেকে পড়াশুনা চালিয়ে যাবার পাশাপাশি সেখানে কোচের তত্বাবধানে রোজিনা জিমনাস্টিকের অনুশীলনও চালিয়ে যাচ্ছে। রোজিনা জানিয়েছ, ইণ্ডিয়ান ইউনিভার্সিটি অ্যাসোসিয়েশন সারা ভারত আন্তঃ বিশ্ববিদ্যালয় জিমনাস্টিক প্রতিযোগীতার আয়োজন করে।২৯ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত  অমৃতসরে অনুষ্ঠিত হওয়া প্রতিযোগীতায় দেশের ১৯২ টি বিশ্ববিদ্যালয়েয় প্রতিযোগীরা অংশ নেয়।রোজিনা জানায় সেই প্রতিযোগীতায় ‘আর্টিস্টিক জিমনাস্টিকে’ সে  মহিলা বিভাগে গুরুনানক দেব ইউনিভার্সিটির হয়ে প্রতিনিধিত্ব করে । সেই প্রতিযোগীতায় সার্বিক ভাবে সে দ্বিতীয় স্থান লাভ করে ’রৌপ্য পদক’ ও ট্রফি পায় ।এছাড়াও ’টেবিল ভল্টে’ স্বর্ণ পদক ও  টিম চাম্পিয়ান হওয়ার জন্যে আরও একটি  স্বর্ণ পদক ও ট্রফি পেয়েছে বলে রোজিনা মির্জা জানিয়েছে ।সর্বভারতীয় স্তরের প্রতিযোগীতায় পদক প্রাপ্তিতে রোজিনা যথেষ্টই খুশি। তবে এখন  তাঁর লক্ষ্য দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক স্তরের প্রতিযোগীতায় অংশ নিয়ে পদক ছিনিয়ে আনা।

LEAVE A REPLY