স্বামী নেই বেপাত্তা শ্বশুর-শাশুড়ি,অসহায় গৃহবধুর পাশে দাঁড়ালো ব্যবসায়ীরা

0
347

সংবাদদাতা,অন্ডালঃ স্বামী মারা গেছে, শ্বশুর শাশুড়ি বেপাত্তা,অসহায় অবস্থায় দিন কাটছিল গৃহবধুর। মানবিকতার খাতিরে তার পাশে দাঁড়ালো ব্যবসায়ীরা। ঘটনাটি উখড়া বাজার এলাকার। বছর তিনেক আগে উখরা বাজারের ব্যবসায়ী লালন গুপ্তার ছেলে টিংকু গুপ্তার সাথে বিয়ে হয় পানাগড়ের বাসিন্দা রেনু গুপ্তার। দম্পতির বছর দু’য়েকের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। মানসিক অবসাদের কারণে জুলাই মাসের এক তারিখ বাড়িতে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন টিংকু গুপ্তা। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ভর্তি করা হয় দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে। ন’দিন পর চিকিৎসা চলাকালীন টিংকু গুপ্তা-র মৃত্যু হয়। শোকের কারনে স্বামীর মৃত্যুর পর রেনু দেবী কন্যা সন্তানকে নিয়ে বাপের বাড়ি চলে যান। তার অভিযোগ বাপের বাড়িতে থাকাকালীন শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার সাথে কোন যোগাযোগ করেনি। দুর্গাপুজোর পর রেনু দেবী নিজেই উখরায় শ্বশুরবাড়িতে ফিরে আসেন। এরপর শ্বশুর বাড়িতে শ্বশুর ও শাশুড়ি তার উপর শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার শুরু করেন বলে অভিযোগ। এই সময় তিনি অন্তসত্বা ছিলেন। অত্যাচারের কারণে তার পেটের সন্তান নষ্ট হয়ে যায় বলে জানান রেনু দেবী। এরপরই তিনি শ্বশুর ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক অত্যাচারের অভিযোগ এনে পুলিশের দ্বারস্থ হন। এই খবর জানতে পেরে শশুর মশাই লালন গুপ্তা ও শাশুড়ি ঘর ছেড়ে বেপাত্তা হয়ে যান। বাড়িতে অন্য কোন সদস্য না থাকায় তার প্রভাব পড়ে রেনু দেবী ও তার কন্যা সন্তানের উপর। অভুক্ত অবস্থায় তাদের দিন কাটে। বিষয়টি নিয়ে রেনু দেবী বাজারের ব্যবসায়ীদের দ্বারস্থ হন। তিনি জানান উখড়া বাজারে রয়েছে শ্বশুর লালন গুপ্তার হোলসেল স্টেশনারি দোকান। ঘর ছেড়ে আত্মগোপন করে থাকাই শ্বশুরের দোকানটিও তালা বন্ধ অবস্থায় রয়েছে। নিজেদের ভরণপোষণের জন্য দোকানটি খুলে তিনি চালাতে চান বলে জানান, বাজারের ব্যবসায়ীদের। ব্যবসায়ীরা মানবিকতার কারণে তার পাশে থাকার বার্তা দেন। বৃহস্পতিবার সকাল দশটা নাগাদ অন্যান্য ব্যবসায়ীদের উপস্থিতিতেই তালা ভেঙে দোকানটি খুলেন রেনু দেবী। রেনু দেবী জানান, স্বামী মারা যাওয়ার পর চরম কষ্টের মধ্যে দিন কেটেছে। এবার থেকে দোকান চালিয়ে সৎপথে রোজগার করে মেয়েকে বড় করব। ব্যবসায়ীদের পক্ষে মনোজ সরাফ,সীতারাম বর্ণওয়ালরা জানান, স্বামী নেই,শ্বশুর-শাশুড়ি বেপাত্তা এই অবস্থায় কন্যা সন্তান নিয়ে ওই বধূ সমস্যায় পড়েছিলেন। মানবিকতার কারণেই আমরা ব্যবসায়ীরা ব্যক্তিগতভাবে তার পাশে দাঁড়িয়েছে।

LEAVE A REPLY