ঝালদায় তপন কান্দুর খুনের তদন্তের ভার সিবিআইয়ের হাতে,স্বস্তি শোকার্ত পরিবারে

0
196

সাথী প্রামানিক,পুরুলিয়া, ৪ এপ্রিল: শেষ পর্যন্ত ঝালদার কংগ্রেস কাউন্সিলর খুনের ঘটনার সিবিআই তদন্ত হচ্ছেই। আজ কলকাতা হাইকোর্টের সেই নির্দেশের খবর শোকার্ত পরিবারে পৌঁছাতেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন। নিহত তপন কান্দুর স্বজনরা। শোকার্ত অবহের মধ্যেই খুশিতে কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহতের স্ত্রী পূর্ণিমা কান্দু। কিছুটা সামলে তিনি বলেন, “এটা পারিবারিক বিবাদের কারণে খুন নয়, রাজনৈতিক খুন। এটা বার বার বলে এসেছি। এই খুনের পিছনে বড় বড় মাথা রয়েছে। তৃণমূলের নেতারা, আই সি যুক্ত রয়েছে। সিবিআই তদন্তে এবার আমার সেই অভিযোগ প্রমাণ হবে। ” এদিকে আজ কলকাতা হাইকোর্টে নির্দেশ দিয়ে জানায়,রাজ্য পুলিশের হাতে থাকা সব নথি সিবিআইয়ের হাতে তুলে দিতে হবে। এছাড়া ৪৫ দিনের মধ্যে সিবিআইকে প্রাথমিক রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ দেয় এই উচ্চ আদালত। অভিযোগকারী ও মানুষের মনে আস্থা ফেরাতে এই নির্দেশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, ১৩ মার্চ খুন হয়েছিলেন ঝালদার কংগ্রেস কাউন্সিলর তপন কান্দু। সেই ঘটনায় স্থানীয় থানার আইসি-র বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উঠেছে। জেলা পুলিশ সুপারকে আই সি সহ বেশ কিছু তৃণমুল নেতার নাম অভিযোগ পত্র দিয়েছিলেন নিহতের স্ত্রী পূর্ণিমা কান্দু। মামলার পুলিশি তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। সিটের তদন্ত শেষ হওয়ার আগে রবিবার সংবাদ মাধ্যমের কাছে পুলিশ সুপার এস সেলভা মুরগণ আইসি-কে ক্লিনচিট দেন। ঝালদায় কংগ্রেস কাউন্সিলার তপন কান্দু খুনে সিবিআই তদন্তের আবেদন শুক্রবার গৃহিত হয় হাইকোর্টে। প্রসঙ্গত, গত ১৩ মার্চ বিকেলে দুষ্কৃতীর গুলিতে নিহত হন ঝালদা পুরসভার ২ ওয়ার্ডের কংগ্রেস কাউন্সিলার তপন কান্দু। এই ঘটনায়  পুলিশ গ্রেফতার করে দীপক কান্দু নামের এক যুব তৃণমূল নেতাকে। পরবর্তীকালে সুপারী কিলার ঝাড়খণ্ডের বোকারোর বাসিন্দা কলেবর সিং,  দীপকের বাবা নরেন কান্দু, অভিযুক্তদের আশ্রয়দাতা আসিদ খানকে গ্রেফতার করে পুলিশ।  খুনের পর দিনই তদন্ত সঠিক করতে রাজ্য সরকার গঠন করে সিট। তাতে মোটেই সন্তুষ্ট ছিলেন না তপন কান্দুর পরিবার। কারণ, এই ঘটনায় ঝালদা থানার আই সি’র দিকে আঙুল তুলেছেন নিহতের স্ত্রী পূর্ণিমা কান্দু। জেলা কংগ্রেসের তরফে সিবিআই তদন্তের দাবী নিয়ে ঝালদায় টাঙানো হয়েছে ব্যানার। সিবিআই তদন্তের দাবী জানিয়ে গত ২৫ মার্চ কোলকাতা হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন পূর্ণিমা কান্দু।  শেষ পর্যন্ত সিবিআই তদন্ত হচ্ছেই। কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও হাই কোর্টের নির্দেশকে স্বাগত জানানো হয়েছে।

LEAVE A REPLY