ঝালদায় এস ডি পি ও-কে জেরা সিবিআইয়ের, পুলিশের বিরুদ্ধে নিগ্রহের অভিযোগ পূর্ণিমার

0
237

সাথী প্রামানিক, পুরুলিয়া, ৯ এপ্রিল: তপন কান্দুর খুনের ঘটনার তদন্তে সিবিআইয়ের জেরার মুখে পড়লেন ঝালদার এস ডি পি ও সুব্রত দেব। আগের কয়েকদিনের মতো শনিবারও সকাল থেকেই শুরু হয়ে যায় তদন্তের কাজ। এদিন ঝালদার ফরেস্ট গেস্ট হাউসে সিবিআইয়ের অস্থায়ী শিবিরে ডেকে পাঠানো হয় ঝালদার এস ডি পি ও সুব্রত দেবকে। ডেকে পাঠানো হয় ঘটনার দিন এলাকায় পুলিশ নাকার দায়িত্বে থাকা পাঁচ পুলিশ কর্মীকেও। তাঁদের বয়ান নথিবদ্ধ করা হয় বলে সূত্রের খবর। বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ হয় এক জন ব্যাঙ্ক আধিকারিকের কাছ থেকেও। অল্প সময়ের জন্য ডাকা হয় মৃতের ভাইপো মিঠুন কান্দুকে। তবে বেশ কিছুক্ষণ জেরা করা হয় ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী প্রদীপ চৌরাশিয়াকেও। এদিন প্রায় এক ঘন্টা জেরা করা হয় এস ডি পি ও-কে। তবে তাকে কী জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে সে নিয়ে কোন মন্তব্য তিনি করতে চাননি তিনি। শুধু বলেন, ডেকে পাঠানো হয়েছিল তাই এসেছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদ জারি রাখলেও তপন কান্দুর হত্যা মামলায় সিটের গ্রেফতার করা চার অপরাধীকে নিজেদের হেফাজতে নেবার প্রক্রিয়া কিছুটা ধাক্কা খায় এদিন। সিবিআইয়ের আইনজীবী এবং এক আধিকারিক প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে এসে দেখেন পুরুলিয়া জেলা আদালত বন্ধ রয়েছে। সূত্র মারফৎ জানা গেছে ঝালদায় খুনের ঘটনায় গ্রেফতার চার অভিযুক্ত দীপক কান্দু, নরেন কান্দু, মহঃ আশিক খান এবং কলেবর সিংকে নিজেদের হেফাজতে নেবার উদ্যোগ শুরু করেছে সিবিআই। গতকালই এদের মধ্যে প্রথম জন বাদ দিয়ে বাকি তিন জনকে আদালতে হাজির করেছিল জেলা পুলিশ। আদালতের অনুমতি নিয়ে নিজেদের হেফাজত থেকে জেল হেফাজতেও পাঠিয়ে দেওয়া হয় তাদের। এদিন আদালতে আবেদন করে এই চার অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে নেবার কথা ছিল সিবিআই-এর। আদালত বন্ধ থাকায় বিচারকদের আবাসনে গিয়ে পৌঁছন সিবিআইয়ের আইনজীবী সহ আধিকারিকরা। সেখানে অবশ্য কাজ হয়নি। রবিবার তাদের থার্ড কোর্ট শেরিং ছোড়েনের এজলাসে উপস্থিত হতে বলা হয়। এদিন অবশ্য তদন্ত সম্বন্ধে যথারীতি কোন কথাই বলেননি সিবিআই আধিকারিকরা। অন্যদিকে, পুলিশের বিরুদ্ধেই আবার অভিযোগ আনলেন নিহত কাউন্সিলার তপন কান্দুর স্ত্রী তথা ঝালদার ১২ নং ওয়ার্ডের কংগ্রেস কাউন্সিলার পূর্ণিমা কান্দু। ই মেল মারফৎ জেলা পুলিশ সুপারের কাছে পাঠানো এই অভিযোগ পত্রে তিনি বলেন ঝালদা পৌরসভায় শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যাবার সময় তার উপর হামলা করেছে পুলিশ। উল্লেখ্য গত ৫ এপ্রিল নব নির্বাচিত কাউন্সিলারদের শপথগ্রহণ এবং বোর্ড গঠন সম্পন্ন হয় ঝালদা পৌরসভায়। এদিনই কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কালা দিবস পালন করা হয়। কালো পতাকা ব্যানার প্ল্যাকার্ড নিয়ে একটি মিছিলও বার করা হয় সেদিন। মিছিলটি পৌরসভার সামনে এলে পুলিশ মিছিল আটকায় বলে অভিযোগ কংগ্রেসের। এসময় পুলিশি হেনস্থার শিকার হন পূর্ণিমা দেবী সহ অনান্যরা বলে দাবী তাদের। এদিন শ্লীলতাহানির কথাও বলা হয়। এই বিষয়টাই উল্লেখ লিখিত অভিযোগ করলেন পূর্ণিমা কান্দু। তিনি বলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার চিন্ময় মিত্তালকে তিনি চেনেন। বাকিদের নাম জানেননা। যা হয়েছে তার তদন্ত প্রয়োজন। উল্লেখ্য ঘটনার দিনই চার কংগ্রেস নেতা বিপ্লব কয়াল, পিন্টু চন্দ্র, সৌমেন দে, বৈদ্যনাথ কৈবর্ত সহ অনান্য কংগ্রেস কর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশের তরফ থেকেই একটি এফ আই আর দায়ের করা হয়। যদিও গ্রেফতার করা হয়নি এই ঘটনায়। পূর্ণিমা কান্দুর অভিযোগ নিয়ে কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে।

LEAVE A REPLY