সাফাই অভিযান মুখ থুবড়ে,জেলায় প্রথম কাঁকসায় ডেঙ্গু আক্রান্ত শিশুর মৃত্যু

0
81

জয় লাহা,দুর্গাপুর, ১২অক্টোবরঃ রাজধানীর পর এবার ডেঙ্গি থাবা জেলায়। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হল এক পঞ্চম শ্রেনীর ছাত্রীর। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে কাঁকসার বিলপাড়া গ্রামে। প্রচার অভিযান চললেও, জঞ্জাল সাফাই কাজ মুখ থুবড়ে। দোসর হয়ে দাঁড়িয়েছে এক’শ দিনের কাজ। তার জেরে ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী। ডেঙ্গু নমুনা সংগ্রহে জোর তৎপরতা শুরু করল পশ্চিম বর্ধমান জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। স্বাস্থ্য দফতর সুত্রে জানা গেছে, মৃতা শিশুর নাম ইশা বিশ্বাস (১১), স্থানীয় একটি স্কুলের পঞ্চম শ্রেনীর ছাত্রী। বাবা উত্তম বিশ্বাস পেশায় দিন মজুর। পরিবার সুত্রে জানা গেছে, দিন দশেক আগে জ্বরে আক্রান্ত হয়ে কাঁকসা ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা করায়। সেখান থেকে তাকে রাজবা়ঁধে  একটি বেসরকারী হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে তার ডেঙ্গু পজেটিভ ধরা পড়ে। তারপর তাকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়। জানা গেছে, দিন কুড়ি আগে পরিবারটি বৃন্দাবন তীর্থধাম থেকে ফিরে এসেছে। এদিকে ঘটনার পর ক্ষোভে ফেটে পড়ে এলাকাবাসী। অভিযোগ, “ডেঙ্গু সচেতনতায় প্রচার অভিযানই সার।প্রশাসনের তরফে ঢাকঢোল পিটিয়ে প্রচার হলেও, বাস্তবে মশা দমনের কাজ হয় না। বর্ষায় সাফাই অভিযান ও মশা দমনের কাজ মুখ থুবড়ে। মৃতা শিশুর বাড়ীর পিছনে রয়েছে বদ্ধ জলাশয়। যেখানে নোংরা দুষিত জল জমা রয়েছে। এছাড়াও এলাকায় ঝোপজঙ্গল সাফাই হয় না বলে অভিযোগ।” যদিও স্থানীয় বনকাটি পঞ্চায়েত প্রধান পিন্টু বাগদী অভিযোগ অস্বীকার করে জানান,” গত প্রায় বছর ধরে এক’শদিনের কাজে কেন্দ্র সরকার অনুদান বন্ধ রেখেছে। ওই কাজের মাধ্যমে নিকাশি, রাস্তাসহ বেশ কিছু সাফাই কাজ নিয়মিত হত। তবুও সম্প্রতি মশা দমনের জন্য পুজোর আগে সাফাই কাজ হয়েছে। এলাকায় নিয়মিত মশা দমনের স্প্রে করা হয়।” অন্যদিকে সচেতনতার মাঝেও জেলাজুড়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত ক্রমবর্ধমান। স্বাস্থ্য দফতর সুত্রে জানা গেছে গত জানুয়ারী মাস থেকে এখনও পর্যন্ত ২১৮ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। পশ্চিম বর্ধমান জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক শেখ মহম্মদ ইউনুস জানান,” বিষয়টি খবর পেয়েছি। এলাকায় সচেতনতার পাশাপাশি জ্বরে আক্রান্তদের রক্তের নমুনা পরীক্ষা করা হবে।” তিনি আরও বলেন,” বৃষ্টির খামখেয়ালিপনা। তাই সাধারন মানুষকে সচেতন হতে হবে। জমা ও বদ্ধ জল রাখা যাবে না। যেমন টায়ার, ডাবের খোল নানান আবর্জনা বর্ষায় যত্রতত্র ফেলে রাখা উচিত নয়। বাড়ীর আশপাশে পরিস্কার রাখা জরুরী। মশারি ব্যাবহার অবশ্যই করা দরকার।” 

LEAVE A REPLY