পুলিশকে কুকুরের সঙ্গে তুলনা করে ফের বিতর্কে মহম্মদ সেলিম

0
139

পারমিতা মণ্ডল, রামপুরহাট, ৮ মেঃ ফের বিতর্কিত মন্তব্য সেলিমের! প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েও ফের ঘুরপথে পুলিশকে কুকুরের সঙ্গে তুলনা করলেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। রবিবার রামপুরহাটের জনসভা থেকে নিজের বিতর্কিত মন্তব্যের সমর্থনে যুক্তি দিয়ে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকের পাল্টা দাবি, “আমি সাধারণত উল্টোপাল্টা কথা বলি না। বললে দুঃখ প্রকাশ করি”। তাঁর কথায়, পুলিশের সঙ্গে কুকুরের তুলনা করে পুলিশের সম্মান গিয়েছে না কুকুরের সম্মান গিয়েছে তা মানুষ বুঝবে।” এপ্রসঙ্গে বগটুই গ্রামে অগ্নিকাণ্ডের উদাহরণ টেনে সেলিম বলেন, “বগটুই গ্রামে হত্যাকাণ্ডের সময় পুলিশের গাড়ির বদলে যদি চারটে কুকুর থাকত তাহলে কমপক্ষে ঘেউ-ঘেউ করত। এই ঘটনায় অনুব্রত মণ্ডল থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও একহাত নিয়েছেন সিপিএম নেতা। প্রসঙ্গত, বগটুই গণহত্যা থেকে হাঁসখালি ধর্ষণকাণ্ডের প্রতিবাদে এবং দোষীদের গ্রেফতারের দাবিতে রবিবার রামপুরহাটে দলীয় মিছিলে হাঁটেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। মহম্মদ সেলিম ছাড়াও মিছিলে হাঁটেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রামচন্দ্র ডোম, বীরভূম জেলা সম্পাদক গৌতম ঘোষ। মিছিল শেষে রামপুরহাট পুরসভার সামনে একটি জমায়েত হয়। সেই জমায়েতই বক্তব্য রাখতে গিয়ে সেলিম বলেন, “তৃণমূলের কেউ কেউ বলছেন আপনি পুলিশকে কুকুরের সঙ্গে তুলনা করলেন? আমি সাধারণত উল্টোপাল্টা বলি না। বললে দুঃখ প্রকাশ করি। আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। আমি কুকুরের অপমান করেছি পুলিশের সঙ্গে তুলনা করে। এতে পুলিশের সম্মান গেছে না কুকুরের সমান গেছে তা মানুষ বুঝবে।” রাজ্যের সাম্প্রতিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তোপ দাগতে গিয়ে পুলিশকে কুকুরের সঙ্গে তুলনা করেন বাম নেতা মহম্মদ সেলিম। তিনি বলেন, “পুলিশকে কেন মাইনে দিয়ে রাখা হয়েছে? কুকুর পুষলেই তো হয়। কারণ কুকুরকে যদি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় তাহলে সে শুঁকে শুঁকে ঠিক খুনিকে ধরবে।” সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকের এরকম বেনজির ভাষায় পুলিশ-প্রশাসনকে আক্রমণ করার ঘটনায় রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে জোর বিতর্ক শুরু হয়। অবিলম্বে মহম্মদ সেলিমের ক্ষমা চাওয়া উচিত বলে দাবি ওঠে। তার প্রেক্ষিতেই এদিন রামপুরহাটের জনসভা থেকে প্রকাশ্যে নিজের মন্তব্য নিয়ে ক্ষমা চাইছেন বললেও আদতে পুলিশকে একহাত নেন সেলিম। এদিন আক্রমণের সীমা লঙ্ঘন করে পুলিশকে কুরুচিপূর্ণ ভাষায় আক্রমণ করতে শোনা যায় সেলিমকে। একইসঙ্গে সভা মঞ্চে দাঁড়িয়ে সরাসরি বীরভূম জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল থেকে মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করে তিনি আরও বলেন, ‘কুকুরকে যদি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় তাহলে সে শুঁকে শুঁকে ঠিক খুনিকে ধরবে। আর বগটুই গ্রামে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে অনুব্রত মণ্ডল বলছেন, কেসটা সাজাতে হবে। আর দিদি সেই কথা শুনে পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিচ্ছেন, কেসটা নানুরের মতো সাজাতে হবে। কিন্তু কুকুর হলে সেই কথা শুনবে? যদি পুলিশ নিজের কাজ করত তাহলে বগটুই কাণ্ডের মধ্যে জঘন্য কাজ হত না। ঘটনার দিন বগটুই মোড়ে চারটে পুলিশের গাড়ি ছিল। কিন্তু তার পরেও বগটুই গ্রামে হত্যাকাণ্ড চলেছে। ফলে সেখানে পুলিশের গাড়ির বদলে যদি চারটে কুকুর থাকত তাহলে কমপক্ষে ঘেউ ঘেউ করত। গ্রামবাসীদের সচেতন করত। পুলিশ অপরাধীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নিয়েছেন। একদিকে দিল্লির দাদার পুলিশ। অন্যদিকে নবান্ন ও কালীঘাটের দিদির পুলিশ যৌথভাবে গরু পাচার করে চলেছে।“ তোলাবাজি প্রসঙ্গ টেনে সেলিম বলেন, “অপরাধীরা শাস্তি না পাওয়া পর্যন্ত লড়াই আমাদের চলবে। এখনও ধরা পরেনি মমতার ভাইপো হোক কিংবা আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো। এখনও অনুব্রত জেলে যায়নি। হাসপাতালে গিয়েছে। আমরা প্রয়োজনে সিবিআই অফিসে মিছিল করে চড়াও হব। হাসপাতাল থেকে জেলে কিভাবে যেতে হয় তার ব্যবস্থা আমরা করব। আমরা তোলাবাজির ঝাঁপ বন্ধ করবই”। প্রসঙ্গত, গত ২১ মার্চ রাত্রি সাড়ে আটটা নাগাদ তৃণমূল নেতা তথা স্থানীয় বড়শাল গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান ভাদু শেখের খুনের পরেই অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে রামপুরহাটের বগটুই গ্রাম। রাতে গ্রামের ১০টি বাড়িতে আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় মহিলা, শিশু-সহ ১০ জন নিহত হন। পরের পর বাড়িতে আগুন লেগেছে এবং একটি বাড়ি থেকেই সাত জনের পুড়ে কাঠ হয়ে যাওয়া দেহ মিলেছে। একটা খুনের মাত্র এক-দেড় ঘণ্টার মধ্যে এতগুলি মৃত্যুতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন চিহ্ন তোলা হয়েছিল রামপুরহাট থানার ভূমিকা নিয়ে।

LEAVE A REPLY