মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রকল্প মিষ্টি হাব আপাতত খুলছে না

0
169

নিজস্ব প্রতিনিধি,বর্ধমান: প্রশাসনের নির্দেশ মত নির্ধারিত সময়ে খোলা সম্ভব নয় মিষ্টি হাব। সাফ জানিয়ে দিলেন মিষ্টি হাবের দোকানদাররা। বৃহস্পতিবার মিষ্টি হাবের দোকানদারেরা জেলাশাসকের সাথে দেখা করে এই কথা জানালেন। দোকান মালিকরা জানাচ্ছেন,  অতীতের থেকে শিক্ষা নিয়ে তাদের উপলব্ধি এই মূহুর্তে মিষ্টি হাব খোলার মত পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য,  ২০১৭ সালে পূর্ব বর্ধমানের বাম চাঁদাইপুরে উদ্বোধন হওয়া মিষ্টি হাব প্রায় ৪ বছর ধরে বন্ধ। খদ্দের হচ্ছে না সেই কারণে দেখিয়ে  দোকানদারেরা মিষ্টি হাবের দোকান বন্ধ করেছিলেন। প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর ধমক খেয়ে জেলা প্রশাসন যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ফের মিষ্টি হাব খোলার পরিকল্পনা নেয়। গত ৬ই মে তড়িঘড়ি প্রশাসনিক বৈঠক হয় জেলাশাসকের দপ্তরে। জেলা শাসক প্রিয়াংকা সিংলা, পুলিশ সুপার কামনাশীষ সেন, জেলা পরিষদের সভাধিপতি শম্পা ধাড়া, বিধায়ক নিশীথ মালিক,জাতীয় সড়কের প্রতিনিধি,পরিবহন দপ্তরের আধিকারিক সহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিক এবং মিষ্টি হাবের দোকানদারদের নিয়ে এই বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে স্থির হয় মিষ্টি হাবে সরকারি বাস দাঁড় করানোর হবে। পাশাপাশি বেসরকারি বাস মালিকদের কাছে বাস থামানোর জন্য অনুরোধ করা হবে। জাতীয় সড়ক থেকে মিষ্টি হাবে বাস ঢোকার জন্য কাটিংয়ের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে বলে জানান জেলাশাসক জানিয়েছিলেন। দোকানদারেরাও দোকান পুনরায় খুলবে বলে জানিয়েছিলেন। কিন্তু আজ দোকানদারদের এই সিদ্ধান্তে মিষ্টি হাব পুনরায় খোলার আশাকে ফের ক্ষীণ করে দিল। দোকানদারেরা জানাচ্ছেন, এর আগেও দুবার বাস দাঁড় করানোর চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু জোর করে বাস দাঁড় করিয়েও যে খদ্দের হবে সেটা ভাবা যাচ্ছে না। তারা জানাচ্ছেন, এই মুহুর্তে এই মিষ্টি হাব থেকে সেফ ল্যাব, প্রিজার্ভ প্যাকেজিং এর উপর জোর দেওয়া উচিত। সীতাভোগ -মিহিদানায় আমরা জি আই পেয়েছি, এরপর ল্যাচার উপর কিভাবে জি আই পাব তার পরিকল্পনা করে এখান থেকে এক্সপোর্টের উপর আরও জোর দিতে হবে। এই মুহুর্তে যা পরিস্থিতি তাতে দোকান পুনরায় খুললে আবারও লোকসানের আশঙ্কা করছেন তারা। এই মর্মে দোকানদারেরা আজ জেলাশাসকের সাথে দেখা করে তাদের অসুবিধার কথা জানান। প্রশাসন চাইলে তারা দোকান ফেরানোর জন্যও প্রস্তুত বলে জানাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। দোকানদারদের পক্ষে প্রমোদকুমার সিং জানান; এভাবে দোকান চালাতে তারা অপারগ। আগের দিনে সবার সাথে কথা না বলেই তারা কথা দিয়েছিলেন। তারা এই দোকানগুলিকে সাজিয়ে অনেক চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু খদ্দের হয়নি।জোর করে দোকান খুলে বা বাস দাড় করিয়ে আগেও চেষ্টা হয়েছিল। তাদের পরামর্শ ; এখানে মিষ্টি রপ্তানি ও গবেষণার কাজ হোক। তাতে মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্ন সার্থক হবে। তারা দোকান ফেরত দিয়ে দিতেও সম্মত। অন্য আর এক ব্যবসায়ী আশীষকুমার পাল জানান; তারা এর আগে বিভিন্ন জেলার বিখ্যাত মিষ্টি বিক্রেতাদের এখানে নিয়ে এসেছেন। কিন্তু ওই জায়গাটি ফাঁকা এলাকা।অনেক খরচ করেও তারা সফল হন নি। তারা মনে করেন জাতীয় সড়কের কলকাতাগামী লেনে হাব হলে বিক্রি হতে পারত। এর আগেও বাস দাড় করিয়ে চেষ্টা হয়েছিল।কিন্তু বারবার লোকসান হয়েছে। এখনই দোকান খোলার পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বলেই মনে করছেন তাঁরা। তারা তাদের বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছেন। এর ফলে মিষ্টি হাব নতুন করে খোলার সম্ভাবনা আবার বিশ বাঁও জলে।
মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য বলেছিলেন কেউ রাজি না থাকলে নতুন কাউকে দোকান দিতে। তাই হয় নাকি অন্যকিছু তাই এখন দেখার।

LEAVE A REPLY