গামছা পরে লাঙ্গল হাতে মাঠে চাষ দিলেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার

0
61

জয় লাহা, দুর্গাপুর, ৯ আগষ্টঃ  মাসখানেক আগে দুর্গাপুরে প্রশাসনিক বৈঠক থেকে দলের বিধায়ক ও জনপ্রতিনিধিদের জনসম্পর্ক তৈরীর নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সামনেই রাজ্যের ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত ভোট। তার আগে দায়িত্ব পেয়েই জনসম্পর্কে নামলেন রাজ্যের খোদ পঞ্চায়েতমন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার।  খারিফ মরশুম। মাঠে জোরকদমে চলছে আমন ধান রোপনের কাজ। মঙ্গলবার গামছা পরে, কৃষকদের সঙ্গে লাঙ্গল হাতে মাঠে চাষ দিতে নেমে পড়লেন প্রদীপাবু। এমনই অভিনব ছবি ধরা পড়ল তাঁর বিধানসভা এলাকা দুর্গাপুর সংলগ্ন কাঁকসার রূপগঞ্জ গ্রামে। কৃষকদের মতো রীতিমতো মাথায় গামছা বেঁধে, একেবারে কৃষক বেশে নেমে হাল ধরে চাষ দিলেন তিনি। সম্প্রতি পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের পূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন দুর্গাপুর পূর্বের বিধায়ক প্রদীপ মজুমদার। এছাড়াও তিনি ছিলেন রাজ্যের কৃষি উপদেষ্টা। মন্ত্রীকে এভাবে লাঙ্গল ধরতে দেখে অনুপ্রানত হয়ে পড়ে উপস্থিত কৃষকরা। যদিও প্রদীপ বাবু সাধারণ কৃষক পরিবারের ছেলে এবং মাটির মানুষ। তাই মন্ত্রী হলেও তিনি রাজ্যের সাধারণ মানুষের সঙ্গেই আছেন এবং সাধারন মানুষের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা সেটা এদিন জমিতে চাষ দিয়ে আবারও প্রমান করলেন। এদিন  প্রদীপবাবু জানান,” রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে মানুষ কবিরূপে বেশী সচোতন। কিন্তু, রবিঠাকুর কৃষক ও গ্রামীন মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক ছিল। কৃষিবিজ্ঞান শিক্ষার জন্য নিজের ছেলেকে আমেরিকায় পাঠিয়েছিলেন। এছাড়াও তিনি হলকর্ষ দিবস উদযাপন করতেন।” তিনি আরও বলেন,” চাষা ঘরের মানুষ। অতীতেও লাঙ্গল ধরেছি। বর্তমানে নতুন প্রযুক্তি ও নতুন যন্ত্রায়নের পক্ষে। বহুদিন পর এভাবে লাঙ্গল ধরতে পেরে নিজেকে গর্বিত মনে হচ্ছে।” প্রসঙ্গত, মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠকে বিধায়কদের জনসম্পর্ক তৈরী করতে পাড়ার চায়ের দোকানে চা পান , মাঠে চাষীদের সঙ্গে লাঙ্গল ধরার বার্তা দিয়েছিলেন। যদিও তারপর দিনই বাঁকুড়ার বিজেপি বিধায়ক নিলাদ্রীশেখর দানা লাঙ্গল হাতে মাঠে নেমে পড়েছিলেন। এছাড়াও বিধায়ক অলোক মাঝিকেও প্রায়ই বাড়ীর চাষের কাজে মাঠে ধান রোপনের কাজে দেখা যায়। তারও আগে রাজ্যের রাজ্যের প্রাক্তন কারিগরি শিক্ষা মন্ত্রী তথা সিঙ্গুর কৃষক আন্দোলনের কান্ডারী রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য্যকেও মাঠে নিজের বাড়ীর চাষের কাজে প্রায়ই দেখা গেছে। তবে এদিন মন্ত্রীকে মাঠে চাষের কাজে লাঙ্গল হাতে দেখে অনুপ্রানিত এলাকার চাষীরা।

LEAVE A REPLY