পুরুলিয়ায় শিশু ও মায়েদের অপুষ্টি দূর করতে এবার পঞ্চায়েতগুলি কাজ করবে

0
216

সাথী প্রামানিক, পুরুলিয়া, ২৯ এপ্রিল: শিশু ও মায়েদের অপুষ্টি দূর করতে এবার গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি ও জেলা পরিষদ কাজ করবে পুরুলিয়ায়। আই সি ডি এস ও আশা কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে গ্রামাঞ্চলের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে অপুষ্টিতে ভোগা ভাবী মায়েদের এবং শিশুদের পুষ্টি পুনর্বাসন কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করবেন পঞ্চায়েত কর্মী ও জনপ্রতিনিধিরা। এর জন্য কোথায় কীভাবে কী কী সাহায্য পাবেন তার একটি মুদ্রিত আকারের খোলা চিঠি বিতরণ করবেন তাঁরা। আজ সেই ভাবনার সিলমোহর দিল জেলা প্রশাসন। এতে জেলা ও ব্লকের আধিকারিকরাও সাহায্য করবেন। আগামীদিনে আরো বেশি করে ও আরও সফলভাবে কাজ করার জন্য পুরুলিয়া সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ পর্যালোচনা সভা হয়। সেখানেই এই প্রস্তাব গৃহীত ও অনুমোদন হয়। শিশুর সঠিক পুষ্টি, জন্মের পর থেকে বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সুস্থ ভাবে শিশুর শারীরিক বিকাশ,  মায়ের স্বাস্থ্য পরীক্ষা,  প্রয়োজনে কাউন্সেলিং এবং যথাযথ পুষ্টি সংক্রান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা ও মা এবং শিশুর অপুষ্টির হার কমানো তথা বন্ধ করার  ক্ষেত্রে পুষ্টি পুনর্বাসন কেন্দ্রের ভূমিকা অনস্বীকার্য। ২০১০ সালে পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে পুরুলিয়া জেলায় সর্বপ্রথম এই পুষ্টি পুনর্বাসন কেন্দ্র গঠিত হয়‌ ইউনিসেফ ও জেলা স্বাস্থ্য দফতরের যৌথ উদ্যোগে। তারপর থেকে জেলায় মোট ৯ টি পুষ্টি পুনর্বাসন কেন্দ্র তাদের  নিরন্তর প্রচেষ্টা ও সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে জেলার ২০ টি ব্লকে কাজ করে চলেছে সারা বছর ধরে। ২০১৫-১৬ সালে স্বাভাবিক ওজনের চেয়ে কম থাকা শিশুর হার শতকরা হার ছিল ৫৮ শতাংশ। সেখানে সাফল্যের সঙ্গে কাজ করে ২০২০ তে কমে দাঁড়িয়েছে ৪৬ শতাংশ। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী অপুষ্টিতে ভোগা মা ও শিশুর সংখ্যা কমেছে। গত এক বছরে ৯ কেন্দ্রে ১২০০ শিশু ভর্তি ছিল। এদের ৭৮ শতাংশ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে। এটাকে সাফল্য হিসেবে বড় করে দেখছে জেলা প্রশাসন।  জেলাশাসক রাহুল মজুমদার বলেন, “সবাই মিলে শিশু অপুষ্টি দূর না করা পর্যন্ত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাব।” এদিন সাফল্যের ক্রমান্নয়ে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে থাকা পুষ্টি পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলিকে পুরস্কৃত করা হয়। এছাড়া সব কেন্দ্রের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রতিনিধিদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন পুরুলিয়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি সুজয় ব্যানার্জি, স্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ সৌমেন বেলথরিয়া, নারী ও শিশু কল্যাণ কর্মধ্যক্ষ নিয়তি মাহাতো, জেলাশাসক, অতিরিক্ত জেলাশাসক, বিভাগীয় ও জেলা আধিকারিক সহ বিশিষ্টজনরা।

LEAVE A REPLY