বোনাসের দাবিতে ডিএসপির ইতিহাসে এই প্রথম শাসক বিরোধী সব শ্রমিক সংগঠন একযোগে আন্দোলনে

0
133

জয় লাহা, দুর্গাপুরঃ এবছর দূর্গাপুজোর আগে বোনাস নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত না হওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার শ্রমিক কর্মচারীরা। পুজো শুরু হলেও  বোনাস মেলেনি শিল্পাঞ্চলের অর্থনীতির মেরুদন্ড হিসেবে পরিচিত রাষ্ট্রায়ত্ত সেইলের দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার (ডিএসপির) শ্রমিকদের।  বোনাসের দাবিতে দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানায় বিক্ষোভ ও আন্দোলন শুরু করেছেন শ্রমিকরা। কারখানার ইতিহাসে এই প্রথম কোনো একটি দাবিতে বিক্ষোভে সামিল হয়েছে শাসক বিরোধী সহ কারখানার সাতটি শ্রমিক সংগঠনই। প্রসঙ্গত, পুজোর বোনাস কত হবে তা নিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত সেইলের দূর্গাপুর ইস্পাত  কারখানা নির্ভর করে সংস্থার নেট প্রফিট বা প্রোফিট আফটার ট্যাক্স (পিএটি)। প্রায় প্রতিবছরই এই বোনাস নিয়ে জটিললতা তৈরী হয়। অতীতে শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা দিল্লি যেত কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে তা স্থির করত। এবছরও অন্যান্যবারের মতোই দিল্লিতে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে শ্রমিক সংগঠনগুলির প্রতিনিধিদের বৈঠক হয়। কিন্তু সেই বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত না হওয়ায় পরবর্তী বৈঠকের দিন স্থির করা হয় আগামী ১০ অক্টোবর দুর্গাপুজোর পরে। যার অর্থ পুজোর আগে বোনাস পাওয়া যাচ্ছে না। তাই বোনাসের দাবিতে একযোগে বিক্ষোভ শুরু করেছেন সিটু, আইএনটিইউসি, বিএমএস, এআইটিইউসি, এইচএএস সহ সাতটি শ্রমিক সংগঠনের সদস্যরা। শ্রমিকদের দাবী, গত ২০২০-২১ অর্থ বছরে সেইলের নেট প্রফিট বা প্রোফিট আফটার ট্যাক্স (পিএটি) ছিল ৩৮৫০ কোটি টাকা। তার ৩ শতাংশ শ্রমিক কর্মচারীদের বোনাস দেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ ১১৫ কোটি টাকা তৎকালীন ৫৪৭৮২ শ্রমিক কর্মচারীর মধ্যে। ২০২১-২২ অর্থ বছরে সংস্থার নেট প্রফিট হয়েছে, সর্বকালীন রেকর্ড ১২০১৫ কোটি টাকা। হিসাব অনুযায়ী ৩ শতাংশ ৩৬০.৪৫ কোটি টাকা ৫১৬৭৭ শ্রমিক কর্মচারীদের মধ্যে দেওয়া উচিত। অভিযোগ, বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দূর্গোৎসব। কিন্তু  সর্বোচ্চ উৎপাদন, সর্বোচ্চ নেট প্রফিট হওয়া সত্ত্বেও বোনাস দিতে টালবাহানা করছে কর্তৃপক্ষ। শুধু তাই নয় আধিকারিক ও শ্রমিকদের মধ্যে বোনাস বন্টনে দ্বিচারিতা করছে। সিটু নেতা বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,” গত ৫৫ বছরের ইতিহাসে সর্ব্বোচ্চ উৎপাদন হয়েছে। সর্বেচ্চ নেট প্রফিট হয়েছে। তারপরও টালবাহানা করছে। শ্রমিকদের প্রতি দ্বিচারিতা করছে। আধিকারিকদের প্রফিট রিলেটেড পেইমেন্ট মঞ্জুর হয়ে গেছে। অথচ শ্রমিক কর্মচারীদের ক্ষেত্রে দ্বিচারিতা করছে। এটা মেনে নেওয়া যায় না। তাই লাগাতার আন্দোলন শুরু করা হয়েছে।” আইএনটিইউসি নেতা দেবেশ চক্রবর্তী জানান,” দুর্গাপুর ইস্পাতের বোনাসের ওপর নির্ভর করে গোটা শিল্পশহরের আর্থ সামাজিক। বোনাস না হওয়ায় পুজোর কেনাকাটা থমকে। অর্থাৎ বাজারের ব্যাবসায়ীদের চিন্তায় ভাঁজ পড়েছে। বাজারেও প্রভাব পড়ছে।” তিনি আরও বলেন,” পুজোর পর আলোচনার দিন ধার্য করেছে। যদিও বোনাস দেয়, সেটাও দিপাবলি হয়ে যাবে। অর্থাৎ পশ্চিমবাংলায় বাঙালিদের প্রতি অন্যায় করা হচ্ছে। এটা মেনে নেওয়া যায় না। তাই আন্দোলনে নেমেছি। যদিও ডিএসপির জনসংযোগ আধিকারিক বেদবন্ধু রায় জানান,” বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।”  

LEAVE A REPLY