দামোদরের ভাঙন থেকে  সিলামপুরে শিবমন্দির প্রাঙ্গন বাঁচাতে বৃক্ষরোপন শিক্ষিকা ইশমাতারার

0
176

জয় লাহা, দুর্গাপুর, ১৪ জুলাইঃ–  দামোদরের গ্রাসের মুখে শশ্মান ও শিবমন্দির। আর সেই ভাঙন রুখতে একমাত্র ভরসা গাছ। দামোদরের ভাঙ্গন ঠেকাতে শশ্মান ও মন্দির প্রাঙ্গনে অরোন্য সপ্তাহে সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে বৃক্ষরোপন করল কাঁকসার গৃহশিক্ষিকা ইশমাতারা খাতুন। চারাগাছ দিয়ে সহযোগিতা করেছে বনদফতর। দামোদর নদের তীরে কাঁকসার সিলামপুরে প্রাচীন শিবমন্দির রয়েছে। মন্দির সংলগ্ন রয়েছে শশ্মান। মকর সংক্রান্তিতে ওই মন্দির প্রাঙ্গনে বাউল মেলা বসে। এছাড়াও বৈশাখ মাসে গাজন ও শ্রাবন মাসে শিবের মাথায় জল ঢালতে পুন্যার্থীদের ঢল নামে। গত কয়েকবছর ধরে জলস্রেতে দামেদরের পাড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এবার গ্রাসের মুখে প্রাচীন ওই মন্দির প্রাঙ্গন। সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে প্রাচীন ওই শিবমন্দির প্রাঙ্গনে বৃক্ষরোপন কর্মসূচী নেয় ইশমাতারা খাতুন। তার সঙ্গে ছিল তার তিন পড়ুয়া সুহানা মির, তামান্না মির ও সেখ মুবিন। এদিন সকালে মন্দিরে আশপাশে প্রায় ৫০ টির মত চারা গাছ রোপন করে। শ্রদ্ধার সঙ্গে আম, কাঁঠাল, আমলকি, হরিতকি,  মেহগিনি অশোক গাছ লাগানো হয়। ইশমাতারা কর্মসূচীতে আপ্লুত হয়ে এগিয়ে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আসেন প্রবীন নাগরিকরা। তার সঙ্গে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় প্রবীনরা। বৃক্ষরোপনের পর উপস্থিত সকলকে মিষ্টি মুখ করানো হয়। একই সঙ্গে এলাকার কিছু দুঃস্থ পরিবারে মেহগিনির মতো মুল্যবান গাছ বিতরন করেন ইশমাতারা। গাছ বিতরনে দুঃস্থ পরিবারের ছেলে মেয়ের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করার বার্তা দেন তিনি। মন্দির প্রাঙ্গনে ইশমাতারার গাছ লাগানোর উদ্যোগে খুশী বাসিন্দারা। মন্দির কমিটির পক্ষে প্রদীপ্ত পাঁজা বলেন,” গত বছর একটা অশোক গাছ লাগিয়েছিলেন। এবছর মন্দির প্রাঙ্গনে যেভাবে উদ্যোগী হয়ে চারা গাছ লাগিয়েছেন আমরা খুবই খুশী। গ্রামে বাড়ী বাড়ী ঘুরে যেভাবে গাছ বিতরন করলেন তাতে সাধুবাদ জানাচ্ছি।” ইশমাতারা খাতুন বলেন,” নদী ভাঙন ঠেকাতে পারে একমাত্র গাছ। দামোদর তীরবর্তী ওই শিবমন্দির প্রাঙ্গন সম্প্রীতির মেলবন্ধন। যেখানে মেলা বসে। গাজন হয়। নদী ভাঙন থেকে পবিত্র ওই ভুমিকে বাঁচানো দরকার। গাছের কোন ধর্ম হয় না। গাছ কখনই ধর্ম দেখে অক্সিজেন দেয় না। গাছ কখনই ধর্ম দেখে ফল দেয় না। গাছ কখনই ধর্ম দেখে ছায়া দেয় না।
একটা গাছ থেকে সমস্ত সম্প্রদায়ের মানুষ উপকৃত হয়। হিংসা, বিবাদ নয় শান্তি বজায় থাকুক। সবুজ ধ্বংস করা চলবে না। আরও সহিষ্ণু হতে হবে। সুষ্ঠ, সুস্থ, দুষনমুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। সুস্থ পরিবেশের জন্য বৃক্ষরোপন জরুরি। তাই অরোন্য সপ্তাহে সম্প্রীতির বার্তা দিতে বৃক্ষরোপন ও বৃক্ষ বিতরন করলাম।” তিনি বলেন,” একটা গাছ যখন ২০ বছর বয়স হবে, সেই গাছ বিক্রি করে ওই দুঃস্থ পরিবার তাদের ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার কাজে লাগাবে। উপকৃত হবেন তারা।” তিনি আরও বলেন,” বৃক্ষরোপনের  মাধ্যমে সম্প্রীতির মেলবন্ধনে গড়ে উঠুক সুস্থ সামাজিক পরিবেশ। বেঁচে থাকুক সবুজ অরোণ্য। অটুট থাকুক সামাজিক সম্প্রীতির মেলবন্ধন। অরণ্য সপ্তাহে এটাই হোক সঙ্কল্প।” 

LEAVE A REPLY