পটের সাথী প্রকল্পের মাধ্যমে প্রাচীন পটশিল্পের পুরনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে দিতে উদ্যোগ জেলা পুলিশের

0
250

নিজস্ব প্রতিনিধি,বাঁকুড়াঃ পট শিল্পিদের গ্রাম নামে পরিচিত ছাতনা থানার ভরতপুর গ্রাম।বংশ পরম্পরায় পট এঁকে চলেছেন এই গ্রামের পটুয়া সম্প্রদায়ের বাসিন্দারা। এই পট ই তাদের জীবন জীবিকার সন্ধান। তবে কোন রং এর ব্যবহার নেই প্রাচীন এই পটে। বিভিন্ন রং এর পাথর, গাছের ছাল, মাটি থেকে প্রাকৃতিক উপায়ে তৈরি হয় রং। তা দিয়েই তুলির টানে আঁকা হয় পটচিত্র। এই পটে আদি সাঁওতাল উপজাতির জন্ম বৃত্তান্ত, আদিবাসী দেব দেবীর কাহিনী, কৃষ্ণলীলা, কৃষ্ণের জন্ম কাহিনী, মনসা মঙ্গল, কর্ণ কাহিনী সহ বিভিন্ন ধরনের পৌরাণিক দেবদেবীর গল্প গাঁথা আঁকা হয় বিশেষ এক ধরনের কাগজের তারপর। সেই পট নিয়ে গ্রামে গ্রামে গান গেয়ে ভিক্ষাবৃত্তি করেন পটুয়ার সম্প্রদায়ের চিত্রকরেরা। ভিক্ষার চাল ডাল আলু  বিভিন্ন শাকসবজি সহ অন্যান্য সামগ্রী মেলে। তা দিয়েই দুবেলা দিন গুজরান করেন পটুয়া সম্প্রদায়ের মানুষজন। কিন্তু বর্তমান সময়ে সেই ভিক্ষাবৃত্তির যা আয়, তার দিয়ে দু’মুঠো খাবার জোগাড় হয় না। তাই পটুয়াদের ছেলেপুলেরা আজ আর পট আঁকতে চায় না। লাভ কোথায় দুবেলা দুমুঠো খাবারের জোগান দেয় না প্রাচীন এই পট। সম্বল বলতে রাজ্য সরকারের দেওয়া শিল্পী ভাতার হাজার টাকা। তাই দিয়ে সংসার চলে না। জমিজমা চাষাবাদ করবেন তাও কোথায়।অগত্যা অন্যের জমিতে শ্রমিকের কাজ। মাঠে ধানের কাজ করেন কেউ কেউ। আবার কেউ পটবৃত্তি ছেড়ে দিয়ে অন্য পেশায় হাত পাকিয়েছেন। তবুও পূর্বপুরুষের সৃষ্ট পট শিল্পকর্ম ছাড়তে মন চায় না। কিন্তু পেটের জ্বালা কি করবেন। তাই বেছে নিতে হয়েছে অন্য পেশা। পটুয়া চিত্রকর মানুষগুলোর আবদার যেমন পট প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করেছে পুলিশ, তেমনি যদি পটের বিক্রির ব্যবস্থা করে পটুয়াদের সাহায্য করে পুলিশ তাহলে আবার নতুন উদ্যমে পট আঁকবেন তারা। গ্রামে গিয়ে পটুয়াদের কাছ থেকে পট কেনা হয়ে ওঠেনা। কিন্তু যদি পুলিশ প্রশাসন পটের সাথি প্রকল্পে পট বাজার জাত করার ব্যবস্থা করেন সেক্ষেত্রে ডাইনিং সাজাতে দু একটা পট সকলেই কিনবেন। বাড়বে শিল্পীর কদর, বাঁচবে শিল্প বাঁচবে শিল্পী এমনটাই দাবি পটের সাথী প্রদর্শনী দেখতে আসা সাধারণ মানুষদের। পটুয়া শিল্প সামগ্রী প্রদর্শনীর মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য আসবে। আগামী দিনে পটজাত দ্রব্য কে বাজারজাত করার ভাবনা চিন্তা আছে বলেই দাবি পুলিশের।

LEAVE A REPLY