পঞ্চায়েতে বাম-কংগ্রেস জোট,কারাত বললেন ‘পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেই সিদ্ধান্ত’

0
40

নিজস্ব প্রতিনিধি,বর্ধমানঃ তৃণমূল মূলত আঞ্চলিক দল। কমিউনিস্টদের দমিয়ে রাখাই এর উদ্দেশ্য। গণতন্ত্রকে না মানাই এর রেওয়াজ। দু বার সরকার চালাবার পর এর জনবিরোধীতা স্পষ্ট হচ্ছে। সোমবার বর্ধমানের সংস্কৃতি লোকমঞ্চে বক্তব্য রাখতে এসে সিপিআইএমের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ কারাত এই কথাগুলি বলেন। দলের প্রয়াত নেতা নিরুপম সেনের প্রথম স্মারক বক্তৃতাসভায় যোগ দেন তিনি। এদিন তিনি ছাড়াও মদন ঘোষ, অরিন্দম কোঙার, অমল হালদার সহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।সভাপতিত্ব করেন দলের জেলা সম্পাদক সৈয়দ হোসেন। সিপিএমের পূর্ব বর্ধমান জেলা কমিটি ছিল সভার আয়োজক। এদিন কারাত আরো বলেন, তৃণমূলের লাগামহীন দুর্নীতি আর বেনিয়ম সামনে আসছে। বিজেপি ও  বিভিন্ন স্কীমের প্রাপকদের নিয়ে রাজনীতি করে। এখানে আবাস যোজনায় পুরোপুরি গরমিল করেছে। রাজনীতির লুম্পেননাইজেশন করছেন ওরা। এই শক্তি কখনোই বিজেপির বিরুদ্ধে লড়ার ক্ষমতা রাখে না। এরা এমন একটা বাইনারি কায়েম করতে চায় যাতে বামেরা প্রান্তিক হয়ে যায়। এখানে দুই শক্তির বিরুদ্ধে লড়তে হবে। কারো প্রতি দুর্বল হলে তা বাম আন্দোলনের পক্ষে ক্ষতিকারক হবে। একইসাথে সারা দেশে বিজেপি বড় বিপদ। তিনি বলেন, এ রাজ্যে বামেরা দুর্বল হওয়াতে গোটা দেশেই বামশক্তি দুর্বল হয়েছে। তাই এ রাজ্যে বামশক্তিকে আবার শক্তিশালী করতে হবে। বর্ধমানের সংস্কৃতি লোকমঞ্চে প্রকাশ কারাত সাংবাদিক সম্মেলনে আরও বলেন- মমতা ব্যানার্জি সরাসরি বিজেপি করেন নি কিন্তু ঘুরপথে করেছেন। তিনি সরকারে ছিলেন। বাজপেয়ী সরকারে মন্ত্রী ছিলেন। আর এ রাজ্যে তৃণমূলের কার্যকলাপে বিজেপিরই লাভ হয়েছে। এবারে দেশে বেকারির হার যে সর্বোচ্চ তা সাম্প্রতিক একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে। ৫ কোটি মানুষ কর্মহীন। কর্মহীনতার হার ৮.৪ গোটা দেশে। নোটবন্দীর প্রভাবের বিচার কোর্ট করতে পারে না। তারা বলেছেন, পদ্ধতি নিয়ে। কিন্তু গোটা পলিসিটাই তো ভুল ছিল। এরাজ্যে সামনের পঞ্চায়েত ভোটে বামশক্তি পুরোপুরিভাবে লড়বে। ভোটের আগে দেখা হবে কী পরিস্থিতি আছে। আগেরবার সন্ত্রাস হয়েছে। মনোনয়ন জমা দিতে দেওয়া হয়নি। এবারে বামেরা তৈরি আছে। আগেরবারের মতো হবে না। কংগ্রেসের সাথে জোট প্রসঙ্গে কারাত বলেন, ভিন্ন ভিন্ন রাজ্যে পরিস্থিতি ভিন্ন। বাস্তব পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে ভোটের আগে। লোকসভাতেও তাই।

LEAVE A REPLY