গ্রামকে রক্ষা করেছিলেন মা,তাই আজও নবঘনপুরে জাগ্রত দেবী রুপেই রক্ষা কালীর পুজো হয়

0
274

নিজস্ব সংবাদদাতা,লাউদোহাঃ বাংলায় বার মাসে তের পার্বণ লেগেই থাকে। সারা বছরই বাংলায় কোথাও না কোথাও কোন না কোন উৎসবে মেতে ওঠে এলাকার মানুষ। এই রকমই এক উৎসব হল রক্ষাকালীর পুজো। বাংলা নববর্ষ পালনের রেশ থাকতে না থাকতেই গ্রাম বাংলার অনেক এলাকায় রক্ষাকালী পুজোর আয়োজন ঘিরে উৎসবের আমেজ তৈরী হয়েছে। যেমন পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুর-ফরিদপুর ব্লকের নবঘনপুর গ্রামে।  এই গ্রামের বাউরি সম্প্রদায়ের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত মা রক্ষা কালী প্রায় দুশো বছরের অধিক সময় ধরে পূজিতা হয়ে আসছেন। জনশ্রুতি আছে, আজ থেকে প্রায় দু’শো বছর আগে গ্রামের কল্প বাউৱি নামে এক গোপালক গরু চরাতে গিয়ে কিশোরী রূপে মায়ের দর্শন পায়। সেই সময় গ্রামে মণ্ডলদের প্রতাপ ছিল। তাই জঙ্গলে গরু চরানোর সময় ওই কিশোরীকে কল্প বাউরি সেখান থেকে চলে যেতে বলেন। বাড়ি ফিরে সেই রাতেই কল্প নামে সেই গোপালককে কিশোরী রূপে মা রক্ষাকালী দর্শন দিয়েছিলেন। স্বপ্নাদেশে তাঁকে শীঘ্রই গ্রামে তাঁর পূজা করার আদেশও দেন। সেই সময় গ্রামে চলছিল মহামারী। দিনে দিনে লোক শূন্য হচ্ছিল গ্রাম। মায়ের স্বপ্নাদেশ পেয়ে কল্প বাউরী গ্রামের এক ছোট্ট মাটির কুটিরে মায়ের পুজো শুরু করেন। গ্রামে মায়ের পুজো শুরু হতেই রক্ষা পায় গ্রাম। গ্রাম থেকে কলেরা মহামারী রোগ মুক্ত হয় গ্রামের মানুষ। মা গ্রামের মানুষকে রক্ষা করেছিলেন বলেই এখানে মা রক্ষা কালী রূপে পূজিত হয়ে আসছেন। প্রাচীন রীতিমতো প্রত্যেক বছর বৈশাখ মাসের প্রথম অমাবস্যায় হয় মায়ের পুজো। আজও বাউরি সমাজের লোকেরা ঘৃত প্রদীপ জ্বালিয়ে শুরু করেন মায়ের পুজো। সেই সময় বাউরী সমাজের আর্থিক অনটনের কারণে তারা গ্রামের ষোল আনার হাতে মায়ের পুজোর দায়িত্ব দেন। আজও মায়ের পুজো চলে আসছে প্রথামতো গ্রামের ষোল আনার উদ্যোগেই। গ্রামের বাসিন্দা সৌগত মন্ডল ও অপূর্ব বাউরিরা জানান, কথিত আছে, একসময় মায়ের বাড়ির জল আনার যে জায়গা সেটা খরার কারণে জলশূন্য হয়ে পড়েছিল। কিভাবে মায়ের পুজো হবে চিন্তায় পড়েছিলেন গ্রামের মানুষ। গ্রামের মানুষেরা মিলে পুকুরটাতে প্রায় ৩৫ ফুট কাটার পরও জল পাওয়া যায়নি। সেই সময় ফের মায়ের স্বপ্নাদেশ পায় কল্প বাউরী। স্বপ্ন দেন যে রাত্রি বারোটার পর সম্পূর্ণ নগ্ন অবস্থায় ওই কাটা জায়গায় কোদালের এক ঘা মারার জন্য। মায়ের নির্দেশমতো কল্প রাত্রি বারোটার পর সেই জায়গায় গিয়ে কোদাল দিয়ে এক ঘা দিয়ে আসেন। আশ্চর্যের বিষয় সকাল হতেই সেই জায়গায় দেখা যায় বিপুল পরিমাণে জলরাশি। মা রক্ষা কালীর লীলা বুঝতে মানুষের অসুবিধা হয়নি। সেই থেকে শুরু হয় মায়ের পুজো। আজও দুর্গাপুর – ফরিদপুর ব্লকের নবঘনপুর গ্রামের এই রক্ষা কালী পুজো ধুমধামের সঙ্গে হয়ে আসছে। পুজো ঘিরে বসে মেলা,হয় যাত্রাপালাও। গ্রামবাসীরা জানান,তাদের গ্রামের এই রক্ষাকালী পূজা দুর্গোৎসবের চেয়েও বড় উৎসব। এই রক্ষা কালী পুজোয় বাড়িতে বাড়িতে সমস্ত আত্মীয়-স্বজনরা আসেন। দুর্গাপূজায় না এলেও কালীপুজোয় গ্রামের যারা বাইরে থাকেন,তারাও  মায়ের পুজোর টানে এখানে উপস্থিত হন।

LEAVE A REPLY