‘এক চিলতে স্বপ্ন’ দেখতে সুদূর লন্ডন থেকে ছুটে এলেন অম্লান দত্ত

0
43

পারমিতা মণ্ডল, রামপুরহাট,১৯ ডিসেম্বরঃ কেউ থাকেন সুদূর লন্ডনে। কেউ বা পুলিশের চাকরি নিয়ে থাকেন জেলার বাইরে। কেউ বা শিক্ষকতা করেন কেউ বা ব্যবসায়ী। রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে তৃণমূল, বিজেপি,কংগ্রেস সব মিলে মিশে একাকার হল বনভোজনে। সকলেই মল্লারপুর হাইস্কুলের ১৯৯১ সালের মাধ্যমিকের ছাত্র। “এক চিলতে স্বপ্ন” দেখতেই বছর পাঁচেক আগে বীরভূমের মল্লারপুর হাইস্কুলের মাধ্যমিকের ছাত্ররা মিলিত হয়েছিল মল্লারপুরে। কর্মসূত্রে বর্তমানে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকেন মল্লারপুর হাইস্কুলের ১৯৯১ সালের মাধ্যমিকের ছাত্ররা। কিন্তু পুরনো দিনের কথা ভেবে বছর পাঁচেক আগে মিলিত হয়েছিলেন ৬৪ জন ছাত্র। সেবার বনভোজনের মাধ্যমে শুরু হয় পথচলা। বছরের এই একটা দিন বন্ধুদের সঙ্গে মিলিত হতে সুদূর লন্ডন থেকে মল্লারপুরে আসেন অম্লান দত্ত। পেশায় আই টি কনসালটেন্ট অম্লানবাবু বর্তমানে লন্ডনের স্থায়ী বাসিন্দা। কৃষ্ণনগর থানার পুলিশ অফিসার সমীর মণ্ডলও মিলিত হয়েছেন বনভোজনে। এছাড়া রাজনগর থানার পুলিশ অফিসার সুশীল মাড্ডি, শান্তিনিকেতন থানার শিলাদিত্য সাহা, কালনা থানার স্বপন বিশ্বাস, ব্যবসায়ী অমৃত ঘোষ মিলেমিশে একাকার। রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে এক মঞ্চে হাজির তৃণমূলের মল্লারপুর ১ নম্বর পঞ্চায়েতের জগন্নাথ ঘোষ, বিজেপি নেতা ব্রজগোপাল মণ্ডল, সিপিএম নেতা মোবি গনি সবাই পাতে পাত ঠেকিয়ে সারলেন বনভোজন। ছিলেন ইতিহাসের শিক্ষক নীহার রঞ্জন দাস,জীবনবিমা এজেন্ট কাঞ্চন সাহা। শুধু বনভোজনের মাধ্যমে তাঁরা মিলিত হন না, সমাজসেবা মূলক কাজেও বড় ভূমিকা রয়েছে ছাত্রদের। করোনা অতিমারিতে বহু পরিবারের বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছিলেন শুকনো খাবার। পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। অক্সিজেন সিলিন্ডার। গৃহশিক্ষক অনুপম সিংহ নাম দিয়েছিলেন ‘এক চিলতে স্বপ্ন’। সেই স্বপ্ন দেখতেই এবারও সুদূর লন্ডন থেকে উড়ে এসেছেন অম্লান দত্ত। তিনি বলেন, “জন্মভুমি থেকে কয়েক হাজার কিলোমিটার দূরে থাকি। বন্ধুদের সঙ্গে মিলিত হওয়ার ইচ্ছে হয়। কিন্তু উপায় নেই। তাই বছরের এই একদিন মিলিত হওয়ার চেষ্টা করি। এবারও এসেছি। খুব ভালো লাগছে প্রায় দুই দশকের বন্ধুদের সঙ্গে মিলিত হতে পেরে। তাছাড়া এই সমস্ত বন্ধুদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় থাকায় এলাকায় সেবার কাজও করা যাচ্ছে। বিদেশ থেকে এলাকার মানুষের পাশে থাকতে পেরে ভালো লাগছে”। অনুপম সিংহ বলেন, “বছর পাঁচেক আগে হঠাৎ করেই মনে হল স্কুলের মাধ্যমিক উত্তীর্ণ বন্ধুরা একসঙ্গে মিলিত হব। যেমন ভাবা তেমন কাজ। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে এবং একে অপরের মাধ্যমে সেই বার্তা পৌঁছে গেল ৬৪ জন ছাত্রের কাছে। সেবারই নাম দেওয়া হল ‘এক চিলতে স্বপ্ন’। শুরু হল বনভোজন এবং সমাজসেবা। আজও তার ব্যতিক্রম হয়নি”।

LEAVE A REPLY