প্রথা মেনে ‘রোহিণী’ উৎসবের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন ধান চাষ শুরু পুরুলিয়ায়

0
60

সাথী প্রামানিক, পুরুলিয়া, ২৮ মে: পরম্পরা মেনে রোহিণী উৎসবের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন ধান চাষ শুরু হল পুরুলিয়ায়। কথায় আছে বাঙালিদের বারো মাসে তে’র পার্বণ। যে কোন শুভ কাজের সূচনা ঘটা করে উত্সবের আঙিনায় আনাই হচ্ছে বাঙালিদের রেওয়াজ । তাই, বিশেষ করে রাঢ় বাংলায় আমন চাষের বিজধান ফেলাকে ‘রোহিণ’ নাম দিয়ে একটি বিশেষ অনুষ্ঠান করে শুরু হয়ে গেল ধান চাষের প্রাথমিক পর্ব। গ্রাম বাংলার অন্যতম জেলা পুরুলিয়াতেও ১৩ জৈষ্ঠ্য ‘রোহিণ’ দিনে বীজ ধান খেতে ছড়িয়ে আষাড়ি ফল মুখে দিয়ে কৃষকরা পরম্পরা মেনে চাষের কাজ শুরু করলেন। পুরুলিয়া জেলার বৃষ্টি নির্ভর আমন ধানের চাষ শুরু হয়ে যায় জৈষ্ঠ্য মাসের মাঝা মাঝি থেকে। গ্রাম্য মানুষের বিশ্বাস রোহিন দিনে বীজ ধান ছড়ানো উচিত। তাহলে, ফলন ভাল হয়। এটা আজ রীতি বা প্রথা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই বংশ পরম্পরায এই বিশেষ রোহিন দিনে চাষের কাজ শুরু করেন তাঁরা। সাধারণত বৃষ্টি নির্ভর এবং বছরে একবার মাত্র চাষ হওয়ার দরুন প্রস্তুতি নিয়েই কৃষিজীবী মানুষ রোহিন উত্সবে মেতে উঠেন। অতি এদিনই জমিতে লাঙল বেয়ে বিজধান ছড়ান তাঁরা। উৎসব পালন করা কৃষকরা জানান,  “এটা আমাদের বিশ্বাস এই দিনে বীজ শোধন করে চারা তৈরি করলে রোগ পোকা মাকড়ের উপদ্রপ কম হয়। তাই, এই দিনে সব চাষীরাই নিয়ম রক্ষার বীজ ধান জমিতে ফেলেন। জেলার বিভিন্ন  গ্রামে একই চিত্র দেখা গেল। বাড়ির পুরুষ সদস্যদের সঙ্গে মহিলারাও চাষের এই শুভ কাজে যোগ দিতে। বাড়ির দেওয়ালের চারি দিকে গোবরের দাগ দেওয়া হয় যাতে বিষধর সরীসৃপ বাড়ির মধ্যে না প্রবেশ করতে পারে। এই রেখা বন্ধন আজও বিশ্বাসের সঙ্গে মেনে থাকি। আমন ধানের চাষ আজও প্রাচীন প্রথা মেনে চলছে। সংস্কার মেনে জৈব সারের মাধ্যমে জমির উত্কর্ষ বাড়িয়ে মাটি তৈরি করেন কৃষকরা। সারা বছর গোবর এক স্থানে জড়ো করে তা চাষের কাজে ব্যবহার করেন তাঁরা। আর প্রাকৃতিক নিয়মে সেই জমিতে বীজ বপন করা হয় বর্ষা শুরুর আগে। এই রোহিন দিনেই গ্রাম বাংলায় আমন চাষের সূচনা হয়ে আসছে আদিকাল থেকে। সেই প্রথা আজও রয়ে গিয়েছে কৃষকদের মনে। আর তাই, তে’র পার্বনের অন্যতম এই রোহিন বা রোহণী।

LEAVE A REPLY