নতুন বছরে নতুন লক্ষ্য,বছরে ১২ মিলিয়ন টন কয়লা উৎপাদন হবে সোনপুর বাজারিতে

0
38

সার্থক কুমার দে,পাণ্ডবেশ্বরঃ বছরে ১২ মিলিয়ন টন কয়লা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রাকে সামনে রেখে নতুন বছরে পথ চলা শুরু করলো সোনপুর বাজারি প্রকল্প।লক্ষ্যে পৌঁছাতে একগুচ্ছ নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে সংস্থা। কোল ইন্ডিয়ার অধীনস্ত খনি সংস্থা ইসিএল এর রাজমহল,ঝাঁঝরা প্রজেক্ট ও সোনপুর বাজারি প্রকল্প সবচেয়ে বেশি লাভজনক সংস্থা। শোনপুর বাজারি প্রকল্প এর মধ্যে অন্যতম। ১৯৮৬ সালে পাণ্ডবেশ্বর এর সোনপুরে এই প্রকল্পটির সুচনা হয়। ১৯৯১ সালের জানুয়ারি মাসে প্রকল্পে শুরু হয় কয়লা উৎপাদনের কাজ।পরবর্তী সময়ে সোনপুর সংলগ্ন এলাকার জমি অধিগ্রহণ করে প্রকল্পটির সম্প্রসারণ করা হয়। বর্তমানে সোনপুর বাজারি প্রকল্পে উৎপাদন হয় প্রতিদিন ৩৫ হাজার টন কয়লা। উন্নত প্রযুক্তি ও অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহারের ফলে সংস্থার উৎপাদন বেড়েছে উল্লেখযোগ্য ভাবে। ২০১৯-২০ আর্থিক বছরে ১১’১ মিলিয়ন টন কয়লা উৎপাদন করে রেকর্ড ছুঁয়েছে সংস্থা। চলতি আর্থিক বছরে লক্ষ্য বেড়ে হয়েছে ১২ মিলিয়ন টন উৎপাদন। এই লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব বলে আশা সংস্থা কর্তৃপক্ষের। গত আর্থিক বছরে সংস্থা মুনাফা করেছিল ২৪৫০ কোটি টাকা। এবার লক্ষ্য ৩০৫২’ ৩২ কোটি টাকা। নতুন লক্ষ্যে পৌঁছাতে একগুচ্ছ নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে সংস্থা।কয়লা পরিবহনে গড়ে তোলা হয়েছে অত্যাধুনিক পদ্ধতি। এই পদ্ধতিটির নাম সাইলো।প্রকল্প থেকে উৎপাদিত কয়লা, বেল্টের মাধ্যমে সরাসরি পৌঁছে যাই সি এইচ পি তে। স্বয়ংসক্রিয় যন্ত্রের মাধ্যমে লোড করা হয় মাল গাড়ির রেকে। আগে এই কাজ হতো ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে। প্রকল্প থেকে ডাম্পারে করে কয়লা এনে জমা করা হতো কোল সাইডিং-এ। তারপর ডোজারের সাহায্যে লোড করা হতো মাল গাড়ির রেক। আগের এই পদ্ধতি ছিল সময় ও খরচ সাপেক্ষ। সাইলো পদ্ধতির ফলে সময় এবং খরচ দু’ক্ষেত্রেই সাশ্রয় বেড়েছে। এই পদ্ধতির মাধ্যমে এখন প্রতিদিন ১০ রেক কয়লা সরবরাহ করা হয় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। সংস্থার দাবি উৎপাদনের পাশাপাশি বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে পরিবেশের ভারসাম্যের উপর। সম্প্রসারণের জন্য ইতিমধ্যে বনদপ্তর এর অনুমতি নিয়ে কাটা হয়েছে প্রায় ৭০ হাজার গাছ।  লাগানো হয়েছে সমপরিমাণ গাছও।দূষণমুক্ত উৎপাদন পদ্ধতি চালু হওয়ায় এলাকায় কমেছে দূষণের মাত্রা। বিভিন্ন সময় খনি সম্প্রসারণের জন্য অধিকরণ করা হয়েছে জমি। ইতিমধ্যে দশটি গ্রামের বাসিন্দাদের পুনর্বাসন দেওয়ার কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। কয়েকটি গ্রামের পুনর্বাসনের কাজ চলছে জোড় কদমে। আগামী দিনেও প্রকল্পটির সম্প্রসারণের কাজ জারি থাকবে। এর জন্য প্রয়োজন হবে ২৫৮৫,৯০ হেক্টর জমি। জমি চিহ্নিতকরণের কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে।চিহ্নিত করা জমির মধ্যে রয়েছে ১৩টি গ্রাম। চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদনের কাজ অব্যাহত রাখতে সম্প্রসারণের কাজ প্রয়োজন।নিয়ম ও পদ্ধতি মেনেই প্রস্তাবিত জমি অধিগ্রহণের করা হবে।এখনো এখানকার ভূগর্ভে ৩৭০’৯৮ মিলিয়ন টন কয়লা মজুদ রয়েছে। সংস্থার আশা সম্প্রসারণের কাজে বাধা না এলে প্রকল্পটি চলবে আরও ৩২ বছর। সোমবার সোনপুর বাজারি এরিয়া অফিস সভাকক্ষে প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেন সংস্থার জেনারেল ম্যানেজার আনন্দ মোহন। উপস্থিত ছিলেন আবির মুখার্জি (পি,এম)। আনন্দ মোহনবাবু জানান, চলতি আর্থিক বছরে ১২ মিলিয়ন টন কয়লা উৎপাদন লক্ষ্য রাখা হয়েছে।

LEAVE A REPLY