অনর্গল বলে দিতে পারে সব দেশ ও রাজ্যের রাজধানীর নাম,ইন্ডিয়ান বুক অব রেকর্ডস-এ বাঁকুড়ার দু’বছর দশ মাসের প্রিয়ম

0
166

নিজস্ব প্রতিনিধি,বাঁকুড়াঃ অনর্গল বলে দিচ্ছে সব দেশ ও রাজ্যের রাজধানীর নাম, কুড়ি ধরনের পশু, কুড়ি রকমের ফল, দশ রকমের পাখি, ১০ টি সবজি, ছটি ঋতুর ইংরেজি অনুবাদ করছে সাবলীল ভাবে। বারোটি জেনারেল নলেজের উত্তর ঠোঁটের আগায়। ইংরেজি বর্ণমালার A থেকে Z তার মুখস্ত। ইংরেজি A থেকে H পর্যন্ত শব্দ বানান করে বলে দিতে পারে অনায়াসেই। এক থেকে একশো বাংলায় ও ইংরেজিতে গোনা এ আর এমন কি ব্যাপার, কিন্তু সে কুড়ি উনিশ করে পেছনের দিকে গুনে যাওয়া তার কাছে জল খাওয়ার মতো। আর এই কৃতিত্ব অর্জন করেছে সে মাত্র দু বছর দশ মাস বয়সে। পেয়েছে অসাধারণ স্মৃতিশক্তির জন্য ইন্ডিয়া বুক অব রেকর্ড এর সম্মান। কথা বলছি বাঁকুড়ার ছাতনা থানার চক্রবর্তী পাড়ার আড়াই বছরের খুদে প্রিয়মের। এই আড়াই বছরের এই খুদে ইন্ডিয়ান বুক অব রেকর্ডসে জায়গা করে নেবার খবর ছড়িয়ে পড়তেই আনন্দের জোয়ার এলাকাজুড়ে। খুশিতে আপ্লুত বাবা মা আত্মীয় পরিজন পাড়া প্রতিবেশী। এই ছোট বয়সেই সে হয়ে উঠেছে উঠেছে সেলিব্রেটি। আড়াই বছরের প্রিয়মের কীর্তি মুগ্ধ করে দিয়েছে সকলকে। এখনো স্পষ্টভাবে কথা ফোটেনি, তবে আধো আধো কথাতেই অনায়াসে গেয়ে উঠছে ভারতের জাতীয় সংগীত। উল্টোদিক থেকে কুড়ি উনিশ আঠারো করে বলে ফেলে সংখ্যা তাক লাগাচ্ছে বড়দের ও। জেনারেল নলেজ ঠোঁটের গড়ায় ছোট্ট প্রিয়মের। এই খুদে ভারতের সমস্ত রাজ্যের নাম ১ মিনিট ১০ সেকেন্ডে ঝড়ের গতিতে বলে ফেলে। যা শুনলে অবাক হবেন আপনিও। শুধু এসবেই নয় এই খুদের জেনারেল নলেজের সবকিছুই যেন ঠোঁটের আগায়। বাবা প্রতীক চক্রবর্তী পেশায় ডিস্ট্রিবিউটরের কাজ করেন। মা সুপর্ণা চক্রবর্তী নিপাট গৃহবধূ। আড়াই বছরের এই ক্ষুদে কিভাবে এতকিছু আয়ত্ত করে নিয়েছে অবাক বাবা মাও। তবে এসবের সূচনা হয়েছিল বাবার মোটর বাইকের নাম্বার বলে দেওয়ার থেকে। মাত্র দু বছর বয়স তখনো তার ইংরেজি বর্ণমালা ওয়ান টুর জ্ঞান করাই নি কেউ। হঠাৎ সকলকে আশ্চর্য করে একদিন বাবার মোটর বাইকের নাম্বার বলে ফেলে সে,সকলের ভেবেছিল হয়তো কেউ তাকে শিখিয়েছেন কিন্তু তারপর থেকেই তাঁর বুদ্ধিদীপ্ততার প্রকাশ ঘটতে থাকে। তাকে যাই পড়ানো হয় সেটা সে স্মৃতিতে গেথে নেয়, তারপর খেলার ছলে বলে ফেলে। গত মে মাসে গুগলে স্ক্রল করতে করতে ইন্ডিয়ান বুক অফ রেকর্ডস এর একটি নোটিশ নজরে আসে মা সুপর্ণা চক্রবর্তী র। চেষ্টা করে দেখতে অসুবিধা কি ছেলের তো কৃতিত্ব রয়েছে, এই ভাবেই ইন্ডিয়ান বুক অফ রেকর্ডস ভিডিও আপলোড করে এ্যাপ্লাই করেছিলেন মা। তবে রেকর্ডস হবে আশা করেননি তিনি ও।এবারও সবাইকে অবাক করে খুদে প্রিয়ম চক্রবর্তী নামে গতকালই এসে পৌঁছেছে ইন্ডিয়ান বুক অফ রেকর্ডস এর শিরোপা।মাত্র দু বছর দশ মাস বয়সে এত বড় সম্মান এনে দেবে ছোট্ট প্রিয়ম ভাবতে পারেনি বাবা মা। খুশি পরিবার পরিজন পাড়া প্রতিবেশী সহ এলাকার মানুষজন।

LEAVE A REPLY