বাচ্চাদের কোলাহল না থাকলেও আছে পাখিদের কলরব,তাই ছুটিতেও স্কুলে আসেন শিক্ষকরা

0
74

বিশেষ প্রতিনিধি,দুর্গাপুরঃ গরমে বাচ্চাদের কষ্ট হবে বলে স্কুল ছুটি দেওয়া হয়েছে। স্কুল বন্ধ, বাচ্চারা এখন আসে না। কিন্তু ওরা রয়ে গেছে। স্কুল ছেড়ে যায় নি। ওদের দেখভালের জন্য নিয়মিত স্কুলে আসেন প্রধান শিক্ষক সহ কয়েকজন শিক্ষক ও একজন অশিক্ষক কর্মী। ওরা কারা ? কিছু পাখি। ময়না, টিয়া, শালিক, পায়রা, পেঁচা। নেপালিপাড়া হিন্দি হাইস্কুল প্রাঙ্গনের গাছে ওদের আশ্রয়। পাখিদের থাকার জন্য গাছে একাধিক বাসা – খাবার ও জলের ব্যবস্থা করেছেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। স্কুল বন্ধ থাকায় বাচ্চাদের কোলাহল শোনা যায় না। কিন্তু নেপালিপাড়া স্কুলের সামনে এসে দাঁড়ালে পাখিদের কাকলি শোনা যাবে। স্কুল প্রাঙ্গনে  আছে বিশাল এক বট গাছ। তার আসপাশে আছে একাধিক শাল গাছ। এই সব গাছে পাখিদের আশ্রয়। গাছের মধ্যে একাধিক বাসা তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। ডালে মাটির হাড়ি ঝুলিয়ে তারমধ্যে খাবার ও জল দেওয়া হয়। কেউ বিরক্ত করে না। একেবারে নিরাপদ আশ্রয়। বিকেল হলেই নানান ধরনের পাখি স্কুল প্রাঙ্গনে এসে হাজির হয়। রাতে বাসায় কাটিয়ে সকাল হলেই উড়ে যায়। ফের বিকেলে চলে আসে। গত সাড়ে চার বছর ধরে পাখিদের এই রুটিনে কোনও ব্যঘাত ঘটে নি। করোনা হোক বা স্কুলের ছুটি পাখিদের খাবার ও জল দেওয়া বন্ধ হয় নি কখনও। স্কুলের এক অশিক্ষক কর্মী লালু রুইদাস নিয়মিত গাছে উঠে প্রতিটি মাটির হাড়িতে খাবার ও জল দেন। লালু বলেন ‘স্কুলের বাগানের পরিচর্যা করার সাথে পাখিদের পরিচর্যার কাজ করি আমি। প্রতিদিন একবার করে পাখিদের গম আর চাল খেতে দিই। সাথে জল। নানা ধরনের পাখি আসে এখানে। স্কুল চলাকালিন কোনও ছাত্র ছাত্রী পাখিদের বিরক্ত করে না। আসপাশের লোকেরাও কখনও পাখিদের ক্ষতি করার চেষ্টা করে নি। বিকেলের দিকে অনেক লোক পাখি দেখতে আসেন স্কুলে।’ পড়াশোনা – পরিকাঠোমা এসবক্ষেত্রে জেলা ও রাজ্যস্তরে সাফল্য অর্জন করেছে দুর্গাপুরের কোক-ওভেন থানার অধীন লেবারহাট এলাকার নেপালিপাড়া হিন্দি হাই স্কুল। স্কুলের প্রধান শিক্ষক কলিমূল হক  শিক্ষারত্ন সহ জাতীয় শিক্ষক হিসাবে রাষ্ট্রপতি পুরস্কার অর্জন করেছেন। ডিজিটাল ব্ল্যক বোর্ড। স্কুলের দেওয়ালে কোথাও বিজ্ঞান ভিত্তিক সচেতনতামূলক বার্তা। আবার কোথাও ট্রেনের আদলে ক্লাসরুম। মনিষীদের বার্তা তো আছেই। তারসঙ্গে স্কুল প্রাঙ্গনে গাছের ডালে পাখিদের আশ্রয়স্থল। যা দেখে স্কুলে আসা অতিথীরা অবাক হয়ে যান। বিশেষ করে পাখিদের বাসা দেখে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক কলিমূল হক বলেন ‘ কখনও রাস্তার সম্প্রসারণ আবার কখনও আবাসন তৈরির জন্য দুর্গাপুর শহরে বহু গাছ কাটা হয়েছে। ফলে শালিক, ময়না, পায়রা, ঘুঘু এই ধরনের দেশিয় পাখিরা আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে। তখন মাথায় আসে আমাদের স্কুলে অনেক গাছ আছে। সেখানে পাখিদের জন্য বাসা ও খাবার – জলের ব্যবস্থা করা হলে কেমন হয়। খাবার – জল ও বাসা পেয়ে পাখিরা দল বেধে স্কুলে আসে। একদিকে পড়ুয়াদের কোলাহল অন্যদিকে পাখিদের কাকলি বেশ লাগে।’ স্কুলের সহকারি প্রধান শিক্ষক মহম্মদ হাসিম বলেন ‘প্রায় সাড়ে চার বছর আগে আমরা পাখিদের সেবার কাজ শুরু করি। তারপর থেকে একদিনও বন্ধ হয় নি। সে  করোনা হোক বা গরমের ছুটি।”

LEAVE A REPLY