তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্গত ছাই ব্যবহারে সচেতনতা বিষয়ে কর্মশালা মেজিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে

0
245

নিজস্ব প্রতিনিধি,বাঁকুড়াঃ দামোদর উপত্যকা নিগমের বাঁকুড়ার মেজিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ছাইয়ের ব্যবহারের উপর সচেতনতামূলক একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়ে গেল আজ। যেখানে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে নির্গত ছাই ব্যবহারের ওপর জোর দিলেন বিশিষ্ট সকলেই। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মেজিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান ইঞ্জিনিয়ার সুধীর কুমার ঝা, সহকারি প্রধান প্রবীর চন্দ্র, প্রধান ইঞ্জিনিয়ার অপারেশন চৈতন্য প্রকাশ, প্রধান ইঞ্জিনিয়ার(সিবিল) আর আর পান্ডে সহ অন্যান্য আধিকারিকরা। মেজিয়া থার্মাল পাওয়ার সহ তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র গুলি থেকে নির্গত ছাইকে কিভাবে ব্যবহার উপযোগী করে মানুষের কাজে লাগানো যায় তার ওপর আলোচনা হয়। প্রতিদিন মেজিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের আটটি ইউনিটে মোট ২৩৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন। রক্ষণাবেক্ষণের কারণেই দুটির মধ্যে কখনও একটি ইউনিট বন্ধ রাখে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ। প্রত্যেকদিন পনেরো হাজার মেট্রিক টন ছাই নির্গত হয়। এই বিপুল পরিমান ছাই কোনোভাবেই মেজিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের যে স্থায়ী ছাই পুকুর তাতে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে ছাই উড়ে আশেপাশের জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে। দুষিত হচ্ছে পরিবেশ। এ নিয়ে আন্দোলনে নেমেছে বারবারই স্থানীয় মানুষজন। সে কারণেই দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন তাপ বিদ্যুৎ তৈরি করতে গিয়ে নির্গত এই ছাইকে পুনরায় ব্যবহারের উপযোগী করে তুলতে বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ নিয়েছেন। তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে নির্গত এই ছাই থেকে তৈরি হচ্ছে সিমেন্ট, ইট, এডবেস্টার, অ্যাস্ ব্লক,ড্রেন ব্লক, ফ্লোর ও পার্কিং টাইলস। এছাড়াও সড়ক এবং ব্রিজ নির্মাণের ক্ষেত্রে, কোলিয়ারির খাঁদ ভরাট করতে ব্যবহার করা হচ্ছে এই উদ্বৃত্ত ছাই। তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের আধিকারিকদের দাবী, মাটি থেকে তৈরি লাল ইট এর বহুল ব্যবহারের ফলে ক্ষতি হচ্ছে আমাদের উর্বর জমির। ইট তৈরিতে মাটি খনন করার ফলে মহামূল্যবান উর্বর জমি পতিত জমিতে পরিণত হচ্ছে। মাটিতে থাকা বিভিন্ন ধরনের জীব পোকামাকড়ের ক্ষতি হচ্ছে।পৃথিবীর ভারসাম্য রক্ষা করতে মাটি থেকে তৈরি করা ইট এর ব্যবহার কমাতে হবে।সম্প্রতিকালে ভারত সরকার তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৩০০ কিলোমিটার এর মধ্যে হওয়া সরকারি বেসরকারি নির্মাণের ফ্লাই অ্যাশ তৈরি ইট ব্লগ ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে চলেছেন বলেই দাবি উপস্থিত আধিকারিকদের। “কৃষি জমিতে ছাই পড়ার ফলে ক্ষতি হয় জমির এই ধারনা ভুল।” এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশেষজ্ঞদের মতে জমিতে ছাই ছড়িয়ে দেওয়ার ফলে জমির উর্বরতা শক্তি বাড়বে। বাড়বে জমির জল ধারণের ক্ষমতা। কীটনাশকের ব্যবহার প্রয়োজন পড়বে না। কিন্তু এখানে এই পদ্ধতি কাজে লাগানো হচ্ছে না, এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতেই এই ধরনের উদ্যোগ বলেই দাবি বিশেষজ্ঞদের।

LEAVE A REPLY